আন্দোলন করুন, সেনাশাসন প্রত্যাহারের জন্য

১. পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী সমস্যা নাকি সেনাশাসন অঘোষিতভাবে কায়েম করে রাখার সমস্যা – এই দিকে প্রথম মনোযোগ দিতে হবে। তাহলে দুই, একবার প্রতিবাদ মিছিল আন্দোলন করে কোন লাভ হবে না। সেনাবাহিনী এবং সেনাশাসন দু’য়ের পার্থক্য আছে। সেনাবাহিনী নাকি সেনাশাসন সমস্যা কোনটি পার্বত্য চট্টগ্রামে সমস্যার কারণ ? সাধারণ চোখে তথা সহজ-সরল ভাষা বলবে, সেনাবাহিনী পার্বত্যাঞ্চলের সমস্যার কারণ। কিন্তু রাজনৈতিক/বিশ্লেষণাত্মক দিক দিয়ে, সেনাবাহিনী সমস্যা নয়, সেনাশাসন মূল সমস্যার কারণ। তাই আমাদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, সেনাশাসন অঘোষিতভাবে কায়েম করে রাখার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। তা না হলে বার বার ঘটতে থাকবে, এখন যেভাবে ঘটে চলেছে।

২. যারা গণতন্ত্র মানে না, তাদের অন্যায়-অবিচার-অত্যাচার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে সুষ্ঠুবিচার পাবো কি? অতীতের ঘটনাবলি বলছে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন দিয়ে সুষ্ঠুবিচার পাবে না। তাহলে এখন করণীয় কী হতে পারে ? পার্বত্যাঞ্চলের অতীতের ঘটনাবলি যেমন, সেনাবাহিনী কতৃর্ক ধষর্ণ, বিচার বর্হিভুত হত্যা, অপহরণ, আদিবাসীদের বাড়ি অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি কোনটা তো
গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে বিচার পাইনি। এটা তো সকলেরই জানা। তাহলে কেন আবার সেনাবাহিনীর পিছনে লেগে আছেন আপনারা ? আন্দোলন করুন, সেনাশাসন প্রত্যাহারের জন্য।

৩. পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী এবং সেটেলার বাঙালিরা কি করেনি ? এদের কার্যক্রম দেখে স্পষ্ট বুঝা যায়, এদের মধ্যে যোগাযোগ আছে। সেনা বাহিনী এবং সেটেলার বাঙালি দ্বারা পাহাড়ে কি ঘটেনি। ধর্ষণ, গণহত্যা, বিচারবর্হিভূত হত্যা, অপহরণ, আদিবাসী গ্রামের অগ্নি সংযোগ, আদিবাসীদের গ্রামে লুটপাট, জোরপূর্বক ভূমিবেদখল ইত্যাদি প্রতিনিয়ত অন্যায়,অত্যাচার করে চলেছে। যা কোনটা বিচার পাইনি। সেনা বাহিনীরা যা করে; সেটেলার বাঙালিরাও তাই করে থাকে। সেটেলার বাঙালি আর সেনাবাহিনী তাদের দু’য়ের একই কার্যক্রম, একই উদ্দেশ্য এবং এদের যোগসূত্র আছে; তাদের কার্যক্রমগুলি তারই বহিঃপ্রকাশ করে। কার সাথে কী রকম সম্পর্ক বা যোগাযোগ আছে – তা বিশ্লেষণ করতে হবে। এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, পরিকল্পিত এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।

৪. সেনাশাসন প্রত্যাহারে দাবিতে আন্দোলন না করে শুধু মাত্র সেনাবাহিনী অন্যায়, অত্যচার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে সমস্যা সমাধান হবে না। অর্থাৎ  দু’ভাবে করতে হবে।
যেমন,
→ জ্বর, বমিবমি ভাব(সমস্যার প্রকাশ) যা দেখা যায়।
→ রোগ ম্যালেরিয়া(সমস্যা) কোন রোগ?
→ মশা(আসল সমস্যা) কেন সমস্যা হয়?
→ অপরিষ্কার নালা, বাড়ি আশপাশ(সমস্যার কারণ)

ঠিক তেমনি,
→ ধর্ষণ, বিচারবর্হিভূত হত্যা, অপহরণ, গণহত্যা ইত্যাদি হচ্ছে সমস্যার প্রকাশ;
যা দেখা যায়। সেনা শাসন প্রভাবে কী হচ্ছে?
→ সমস্যা হচ্ছে জাতিগত নিপীড়ন, আদিবাসীর জাতির অস্তিত্বকে ধ্বংস ইত্যাদি বা
নিশ্চিহৃ করা। [পিছনের একটা মূল্যবোধ বা মতাদর্শ আছে।] → আসল সমস্যার সেনাবাহিনী, সেটেলার।
→ সমস্যার কারণ হচ্ছে সেনাশাসন কায়েম।

প্রতিটি দ্বন্দ্বের(Factor) মধ্যে Actor(কর্তার) থাকে। Factor কী এবং Actor’কে সেটা জানতে হবে।

৫. নীরব থেকে তাদেরকে সমর্থন করছি না তো ? অর্থাৎ তাদের অন্যায়, অত্যাচার দৃশ্যপট দেখেও প্রতিবাদ না করাও একটি সমর্থন। আবার অনেকে মনে হতে পারে, আমি তো রাজনীতি করি না। রাজনীতিও বুঝি না। যারা রাজনীতি করে, এটাই (প্রতিবাদ করার) হল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাজ। আসলে কি তাই ? পক্ষে যাবো নাকি বিপক্ষে যাবো তা বিশ্লেষণ করতে হবে; যারা নীরবতা পালন করে আছেন। প্রতিটি সমস্যার মধ্যে সমাধানও পথ থাকে। তবে তার আগে সমস্যার কারণকে চিহৃিত করতে হবে। তারপর সমাধান পথও সহজে খুঁজে পাবে। যেমন, পার্বত্যাঞ্চলের সেনা বাহিনী সমস্যা নয়, সমস্যার হচ্ছে সেনাশাসন বলবৎ রাখার। সমস্যার কারণ চিহৃিতর করাও একটা সমস্যা।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার উথোয়াইনু মারমা

I'm student.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।