করোনার মহামারিতে শিক্ষার্থীদের বাড়িভাড়া নিয়ে সংকটময় দৈনন্দিন জীবন

()

রাজধানী ঢাকাসহ প্রতিটি জেলা শহরের শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই গ্রাম থেকে আসে।আর এই গ্রাম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যাগরিষ্ট ভাগ কৃষক পরিবারের সন্তান। এসব শিক্ষার্থীরা সাধারণত বাসায় গিয়ে টিউশন,কোচিং অথবা প্রাইভেট কোন প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন চাকরি করে ব্যয়ভার নির্বাহ করে। যেহেতু গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষনা দিয়ে,ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশের সরকার।তবে থেকে সরকারের সিদ্ধান্তের সাথে সম্মতি জানিয়ে নিরুপায় হয়ে টিউশন, কোচিং থেকে বিরত থেকে বাড়িতে অবস্থান করেছে সকল শিক্ষার্থীরা।আর যেহেতু নামমাত্র কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্যসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট রয়েছে। তাই সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাহিরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবাসন সংকটের সমাধান করতে হয়।

নিজ দায়িত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের বড় ভাগই সেইসব শিক্ষার্থী যারা গ্রাম থেকে এসেছে ও তাদের আয়ের পথ টিউশন, কোচিং বা খন্ডকালীন চাকরি।তাদের নিজেদের আয়ের উৎস মার্চ থেকেই বন্ধ রয়েছে। আবার তাদের পারিবারিক আর্থিক আয়ের উৎস হচ্ছে কৃষি। একদিকে শিক্ষার্থীদের আয়ের পথ বন্ধ। অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতির কারনে কৃষির বেহাল অবস্থা সবাই অবগত। যেখানে কৃষক তার ফসলের নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। ফসলের ক্ষতি ও ফসলের আর্থিক ক্ষতি জীবনকে অতিষ্ট করেছে।
আবার যেসমস্ত অভিভাবকগণ দিনমজুর তারা প্রাকৃতিক পরিবেশসহ দেশের প্রতিবন্ধকতার কারণে দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে পরেছে।কিন্তু এসব বিষয়ে সরকার সামান্য সহযোগিতার হাত দিলেও প্রশাসনের তদারকি বা প্রশাসনের ভূমিকা নিরব দর্শকের মত।

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের এই বৈরি পরিবেশের মধ্যে বাড়িভাড়া নিয়ে যে জ্বালাময়ী জীবন অতিবাহিত করছে, তার থেকে মুক্তির উপায় তাদের বাড়িভাড়া মওকুফ। প্রশাসন ও সম্মানিত বাড়িওয়ালাগণ এ বিষয়ে যদি একটু সজাগ দৃষ্টি রাখেন, তাহলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী উপকৃত হবে বলে আশা করি।কারণ, মার্চ থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত (বর্তমান নোটিশ অনুযায়ী) হয়তো আরও বাড়তে পারে, এই বিশ্বব্যাপী দূর্যোগে বাড়িভাড়া সংকট শিক্ষার্থীদের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়।অন্যদিকে অনেকে বলেন বাড়ি ছেড়ে দিতে, তাহলে এত বড় একটা অংশের শিক্ষার্থীরা তাদের আসবাবপত্র নিয়ে যাবেন কোথায়? যদিও এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে কতিপয় শিক্ষার্থী বাড়ীভাড়ায় অতিষ্ট হয়ে বাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।কিন্তু তারা জানেন না, তাদের আসবাবপত্র ও বই-পুস্তকের কি হবে?

অন্যদিকে মহাবিপদ হলো কিছু বাড়িওয়ালাগণ দাবি করেন, বাড়ি ভাড়াই তাদের একমাত্র আর্থিক আয়ের উৎস। তবে একথা কতিপয় বাড়িওয়ালার জন্য সত্য। যাদের পরিবার পরিচালনার জন্য বাড়িভাড়াই একমাত্র সম্বল। তাই এসব বিষয়সহ বাড়িওয়ালাদের দিকটি বিবেচনায় রেখে সরকার,ডিসি,সিটি কর্পারেশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অগ্রনী ভূমিকা পালন বাঞ্ছনীয়।

প্রশাসন, বাড়িওয়ালাগণ ও বিষয়ে জড়িত সবার সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তারা সমস্ত কিছুর সাথে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের ৬০% অথবা অর্ধেক বাড়িভাড়া মওকুফ বা বিকল্প কোন উপায়ের দাবি জানাচ্ছি।

নয়ন রায় আকাশ
শিক্ষার্থী,
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ।
[email protected]

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ব্লগপোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার নয়ন রায় আকাশ

নয়ন রায় আকাশ,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,ঢাকা কলেজ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: আমার কলম কপিরাইট আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল সুতরাং লেখা কপি করাকে নিরুৎসাহিত করে। লেখার নিচে শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করার জন্য আপনাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।