করোনা পরবর্তী বিশ্বে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন স্বপ্ন জাগাচ্ছে সার্ক

()

উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুতে ভুগতে থাকা করোনা ভাইরাস বা কোভিড -১৯ এর মহামারি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতায় আশা জাগাচ্ছে৷ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সবকটি দেশ লকডাউনে থাকলেও আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের প্লাটফর্মে এসব রাষ্ট্রের সরকার প্রধানরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করেছেন৷ আলোচনার পর মহামারি মোকাবেলায় একটি ফান্ডও গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও আলোচনায় বসেছেন৷ ভিডিও কনফারেন্সে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি যোগ না দেওয়া দুঃখজনক। এখন পর্যন্ত সার্ক ফান্ডে টাকা না দিলেও পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশী বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফোনালাপ করেছেন৷ এছাড়া আলোচনার পরপর পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সার্ককে গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফরম বলে বিবৃতি দিয়েছে৷ সূত্র ঃ সাউথ এশিয়ান মনিটর৷

২০১৬ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানে সার্কের ১৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের উঁরির সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সম্মেলন বয়কট করে ভারত৷ ভারতের সাথে যোগ দেয় বাংলাদেশ, ভূটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। এরপর থেকে মোটামুটি অকার্যকর দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনাময়ী এই সংস্থাটি৷ কিন্তু করোনা মহামারি মোকাবেলায় ভিডিও কনফারেন্সে আলাপ, অতীতের নানা অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থা ফের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সার্কের গুরুত্ব উপলব্ধি করাচ্ছে৷

করোনা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব ঃকরোনা মহামারি বেশ কিছু আঞ্চলিক সহযোগিতায় যেমন আঘাত করেছে তেমনি বেশ কিছু জায়গায় আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব উপলব্ধি করিয়েছে৷ প্রথমত পাবলিক হেলথ কোনভাবেই একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ড বা রাষ্ট্রের ব্যাপার না এটা পুরা অঞ্চলের এমনকি পুরা বিশ্বের ব্যাপার সে ব্যাপারটি বুঝিয়েছে৷ পৃথিবীতে বাস করা সবাই যে এক সাগরের বাসিন্দা, এক ঘরের আগুন যেকোন মুহুর্তে অন্য ঘরে লাগতে পারে এই অভিজ্ঞতা দিয়েছে বিশ্বকে। সুতরাং আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব উপলব্ধি করবে বিশ্ব। ইউরোপে যে জেনোফোবিয়া কাজ করত সেটা কমে আসবে৷

প্রিন্স চার্লস বা চীনের উহানের নাগরিক সবাই যে এক বিশ্বের নাগরিক, বিশ্ব সংকটে পড়লে সবাইকে ভুগতে হবে সে কবিতা যেন জনে জনে শোনাচ্ছে কোভিড-১৯ ভাইরাস৷ যুদ্ধের মতো এই মহামারির ধাক্কা তো জাত বা ভৌগোলিক কাঠামো বুঝেনি৷ ধাক্কা পুরা বিশ্বে লেগেছে।

ফলে আঞ্চলিক সহযোগিতায় ও বিশ্বায়নের ধারণায় পরিবর্তন আসতে বাধ্য৷ ইতিমধ্যে মার্কিন আইনপ্রণেতারা ইরানের মেডিকেল সরঞ্জাম কিনতে নিষেধাজ্ঞা শীতিল করার মত দিয়েছে৷ ইরানও আর্থিক সহযোগিতার জন্য হাত বাড়িয়েছে মার্কিন ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান আইএমএফে৷ বৈরী প্রতিবেশী জাপানের ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা একমাসের বেতন চীনে দান করেছে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায়৷ সুতরাং এসব বিষয় সহযোগিতার ভাবনায় পরিবর্তন আনবে। তবে আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার গুরুত্ব বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বিশ্ব আর এক/দ্বিমেরুকেন্দ্রিক থাকছে না বরং উত্থান হবে বহুমেরুকেন্দ্রিকতা বা Mutlipolarism এর৷ ফলে ছোট অর্থনীতির দেশ বা উদীয়মান অর্থনীতির দেশ কেউই এখন বড় কোন দেশের প্রভাব বলয়ে থাকবে না নিজেরা নিজেদের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন হবে। এই পরিস্থিতিতে আবার আশা জাগাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায় সম্ভবনাময়ী প্রতিষ্ঠান সার্ক৷

সার্কের সফলতা-ব্যর্থতা ও প্রয়োজনীয়তা ঃসার্কের প্রস্তাবক বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তবে এর আগে ১৯৭২ সালেই ভারত আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আরেক রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি দক্ষিণ এশিয়ও জোটের আলাপ তুলেছিলেন। সার্কের গত ৩ দশকে বেশ অর্জন আছে। আঞ্চলিক সালিশি আদালত, সাফটা বা মুক্ত বানিজ্য চুক্তি, সার্ক ডেভেলেপমেন্ট ফান্ড গঠন, পর্যটন, যোগাযোগ বা কানেক্টিভিটি বাড়ানোতে ঐক্যমত্য ছাড়াও দারিদ্র্য বিমোচন ও তথ্য বিনিময়ে সাফল্য রয়েছে সার্কের। এছাড়া ভিসা মুক্ত দক্ষিণ এশিয়া ও অভিন্ন মুদ্রা চালুর ব্যাপারটিও আলোচনায় রয়েছে৷ সার্কে অলিখিত ভাবে বড় ভাইয়ের ভূমিকা পালন করে ভারত৷ নানা সময়ে ভারত সার্ককে সুসম্পর্কিত প্রতিবেশী গড়ার হাতিয়ার হিসাবে দেখলেও কখনো কখনো ভারত সার্ককে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীকে এক জোট হওয়ার প্লাটফর্ম হিসাবে দেখেছে৷

এটা কেন বলছি ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙা নিয়ে যখন বারবার সার্কের সম্মেলন পেছাচ্ছে তখন সবার মতামতের ভিত্তিতে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠানের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়৷ কিন্তু হঠাৎ করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও বাংলাদেশে আসতে বেঁকে বসেন৷ পরে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রানিসিংহ প্রেমদাসের অনুরোধে অবশেষে তিনি এসেছিলেন৷ এরপরে ২০০৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত্য সার্ক সম্মেলনের আগে শেরাটন হোটেলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের অজুহাতে মনমোহন সিংহও না আসতে চেয়েছিলেন৷ অন্যদিকে ভারতের অর্থায়নে নির্মিতব্য দিল্লীর সাউথ এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থায়ন আটকে রেখেছে ভারত৷ তবে ভারতের এক গুয়েমি ও সার্ককে অকার্যকর করে আখেরে লাভ হয়নি কোন৷ এতে করে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে সহজভাবে প্রভাব তৈরী করতে পেরেছে প্রতিদ্বন্দ্বী চীন৷ পাকিস্তানের পর নেপাল ও বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চীনের। মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কায়ও তাদের বিনিয়োগ রয়েছে৷ সুতরাং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের প্রভাব বলয়ের বাইরে দক্ষিণ এশিয়ায় সমৃদ্ধ সম্পর্ক উন্নয়নে সার্কই এই মুহুর্তে গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফরম হতে পারে৷

সার্কের বিকল্প হিসাবে গড়ে উঠা অন্যান্য সহযোগিতা সংস্থাগুলো খুব একটা সম্ভাবনা দেখাতে পারেনি দক্ষিণ এশিয়ায়৷ একসময় ভারত বিমসটেক নিয়ে বেশ উৎসাহী ছিল৷ মূলত ভারতের উদ্যোগেই ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ, ভারত,মায়ানমার ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে এই সংস্থাটি যাত্রা শুরু হয়। বিমসটেকে পরবর্তীতে নেপাল,ভূটান ও শ্রীলঙ্কা যোগ দেয়৷ এই সংস্থাটি নিয়ে ভারতের আগ্রহের কারণ আছে৷ ভারত বহুদিন ধরে তার পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে থেকে মায়ানমার হয়ে থাইল্যান্ডে সড়কপথে যোগাযোগ তৈরী করতে চায়৷ এটাই ভারতের পূর্বমুখী নীতির অধিকতর অগ্রাধিকার প্রকল্প। আসিয়ানের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র ভারত মূলত এর মাধ্যমে দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ায় তার বানিজ্য সম্প্রসারণ করতে চায়৷ এই সংস্থার মূল লক্ষ্য ব্যবসা,বানিজ্য,পর্যটন ও যোগাযোগ। যেখানে সার্ক আরও বিস্তৃত সম্পর্কের কথা বলছে৷ ২০১৪ সালে ঢাকায় বিমসটেকের সদর দফতর স্থাপিত হলেও গত দুই দশকে নানা কারণে বিমসটেক খুব একটা কার্যকর সংস্থা হয়ে উঠতে পারেনি৷ এই পর্যন্ত চারটি শীর্ষ সম্মেলনই অর্জন মাত্র৷ তবে দিল্লির থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো জয়িতা ভট্টাচার্য বিবিসিকে বলেছিলেন এগুলো ঠিক সার্কের বিকল্প নয় – বরং পরিপূরক।

প্রতিবেশী পাকিস্তানের সাথে বৈরী সম্পর্কের কারণে ২০১৯ সালে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সাউথ এশিয়ান সাব রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন বা সাসেক গঠন করার উদ্যোগ নেয় ভারত। কিন্তু সেখানে আফগানিস্তানকে যুক্ত করা যাচ্ছে না৷ আফগানিস্তানে যেতে পাকিস্তানকে দরকার ভারতের। আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানের ফলে ভারতীয় প্রভাব ক্ষীণ হয়ে উঠেছে৷ অথচ অধিকৃত কাশ্মীরসহ ভারতের নিরাপত্তায় আফগানিস্তান খুবই গুরুত্বপূর্ণ দেশ ভারতের কাছে৷ কিন্তু ভূ-বিচ্ছিন্ন এই নিকট প্রতিবেশী দেশে ভারতের যোগাযোগ একমাত্র উড়াল পথে৷ একসময় ইরানের চাবাহার বন্দরের মধ্যে দিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশের পরিকল্পনা থাকলেও সর্বশেষে বন্দর নির্মাণ থেকে ভারতের সরে আসা ভারতকে আফগানিস্তান হাতছাড়া হওয়া নিয়ে ভাবাচ্ছে৷

এর পরে ভারত চারদেশীয় (বাংলাদেশ -ভারত-নেপাল-ভূটান) সংযোগ সড়ক চুক্তির উদ্যোগ নিলেও ভূটান তার দেশে পরিবেশ রক্ষার কথা বলে বহির্বিশ্বের গাড়ি ঢুকতে দিচ্ছে না৷ এছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার ত্রিদেশীয় পাইপলাইন চুক্তিও কার্যকর করা যায়নি৷ বরং ভারতের প্রতিবেশী মায়ানমারে চীনের প্রভাব অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে৷ অন্যদিকে সার্কের পর্যবেক্ষক মায়ানমার একসময় সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল৷ এসব বাস্তবতায় ভারতও ফের উপলব্ধি করেছে সার্ক কার্যকরের মাধ্যমে সুসম্পর্কিত প্রতিবেশীসহ একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধশালী দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলা যাবে৷ অন্যদিকে কাশ্মীর ইস্যুকে পাকিস্তান যেভাবে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছে ভারত এই ঘটনার সমাধান সার্কের মাধ্যমে করলে এতটা উত্তাপ ছড়াত না৷

যদিওবা সার্কে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার তো সুযোগ নেই৷ তবে শুধুমাত্র সার্কের মাধ্যমে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের চরম উত্তেজনা দু’বার প্রশমন হয়েছিল।
প্রথমবার ১৯৮৭ সালে ব্যাঙ্গালুরে অনুষ্ঠিত সার্কের দ্বিতীয় সম্মেলনে। ১৯৮৬-১৯৮৭ তে রাজস্থান সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সৈন্য সমাবেশ ঘটেছিল৷ অপারেশন ব্রাসট্যাক্স নামে এই সৈন্য সমাবেশের মধ্যেই ব্যাঙ্গালুরে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের দিকে হাসিমুখে হাত বাড়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। তাদের সেই ব্যক্তিগত আলাপের পর তৎক্ষনাৎ সৈন্য সমাবেশ সরিয়ে পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়েছিল৷ এরপর ২০০১-২০০২ সালে পাকিস্তান ভারতের মধ্যে প্যারাক্রাম সীমান্তে ফের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি চলে৷ পরে ২০০৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ১২তম সার্ক সম্মেলনে উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পাকিস্তান সফরে হঠাৎ করেই দু-দেশের সাথে সম্পর্কের উন্নতি হয়৷ এই দুই ঘটনা প্রমাণ করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনেও সার্ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশও উপলব্ধি করেছে সার্কসহ প্রতিবেশী দেশের সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে পূর্বমুখী সম্পর্ক তৈরীতে পাকিস্তানের কাছে সার্কের বিকল্প নেই৷

সম্ভাবনার অমিত দুয়ার খুলছে সার্ক ঃসার্কের অর্জন অনেক৷ পর্যটন, আবহাওয়া তথ্য যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক যোগাযোগে তার সাফল্য রয়েছে৷ এই অঞ্চলের অন্যতম চ্যালেঞ্জ সন্ত্রাসবাদ ও দারিদ্র মোকাবেলা৷ প্রায় শতকোটির কাছাকাছি লোক দরিদ্র। সার্ক ডেভেলপমেন্ট ফান্ড দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগামী ভূমিকা রাখতে পারে৷ এছাড়া ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভূটানে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সবদেশকে একসাথে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে৷ করোনা পরবর্তী বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনীতির সময়ে সাফটা বা দক্ষিণ এশিয়ও মুক্ত বানিজ্য চুক্তি এই অঞ্চলের বানিজ্য সম্পর্ককে প্রসারিত করবে৷ আরেকটি আলোচনার বিষয় মুক্ত ভিসা পদ্ধতি । মুক্ত ভিসায় সার্ক সম্মত হলে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্প আসিয়ান ভুক্ত দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে৷ ইতিমধ্যে ভারতের সাথে নেপাল ও ভূটানের মুক্ত বানিজ্য চুক্তি ও মুক্ত ভিসা চুক্তি রয়েছে। শ্রীলঙ্কার সাথে বিষয়টা আলোচনাধীন। সুতরাং সার্ক কার্যকর হওয়া এসব সম্ভাবনাকে সম্ভব করবে। ছোট দেশগুলোর উপর ভারতের একক আধিপত্যের বাস্তবতাও এখন আর নেই৷ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল এখন বিশ্ব পরাশক্তিদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে ও কূটনৈতিকভাবে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছে৷ সার্কের মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে বোঝাপড়া সমৃদ্ধ হলে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে দক্ষিণ এশিয়ার বানিজ্য যেমন বাড়বে তেমনি দক্ষিণ এশিয়া থেকে সড়ক পথে ইরান হয়ে তুরস্ক -ইউরোপ যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরী হবে৷

আঞ্চলিক সহযোগিতায় তৈরীতে কূটনৈতিক বিশ্বস্ততা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সার্কভুক্ত দেশগুলোর এই জায়গায় আরও নজর দেওয়া জরুরী। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন অথবা আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক জোট শক্তিশালী হয়ে উঠার পেছনে অভিন্ন উদ্দেশ্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্যতা কার্যকর ভূমিকা রাখে। সেক্ষেত্রে সার্ক এগিয়ে আছে বহুগুণ৷ সার্কভুক্ত দেশসমূহের অভিন্ন শত্রু দারিদ্র্যতা ও সন্ত্রাসবাদ। অন্যান্য আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐকতান বেশ সমৃদ্ধ। এই মুহুর্তে সার্কের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা। কিন্তু চলতি বছরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য সাংহাই কনফারেন্সের জন্য পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। চীনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের সম্মেলন পাকিস্তান বয়কট করার কথা না৷ সুতরাং সাংহাই কনফারেন্সে দিল্লীতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান। সাংহাই কনফারেন্সের সাথে ভারত,পাকিস্তানের সম্পর্ক একযুগের৷ সার্কের প্রতিষ্ঠা সদস্য এই দুদেশের সার্কের সাথে সম্পর্ক তিন যুগ ধরে৷ সাংহাই কনফারেন্সে পাকিস্তান ভারত একসাথে যোগ দিতে পারলে সার্ক সম্মেলনে কেন নয়!

সার্কের অমিত সম্ভাবনা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতি তাই একটি কার্যকর সার্কের কথায় বলছে। যার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্য বিমোচন, বানিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগ ও পর্যটন শিল্পে অমিত সম্ভবনার দুয়ার খুলে যাবে বলে আশা করা যায়৷ গত তিনদশকে সার্কের অভিজ্ঞতা কখনো অম্ল কখনো মধুর ৷ সুতরাং এই অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা দেশগুলোকে অভিজ্ঞতার আলোকে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবে৷

#……….

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ব্লগপোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন

একটি মন্তব্য

  1. বদ্দা আরাত্তু আর হতদিন করোনার পিছদ্দি পরি থা পরিবো???

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।