কেউ চাইলে কি রাজনীতির বাইরে থাকা যায়?

আপনি রাজনীতি পছন্দ করেন না। তাতে কারো সমস্যা নেই। সেটা আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার আছে। আপনি রাজনীতি করবেন নাকি করবেন না – নিজের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

তবে আপনি চাইলেও রাজনীতি বাইরের থাকতে পারবেন না। আমরা যারা নিজদেরকে নিরপেক্ষ বলে দাবি করে থাকি। আসলে চাইলে কি নিরপেক্ষ থাকায় যায় তথা চাইলে কি রাজনীতি বাইরে থাকা যায়?

আপনি যে সমাজে থাকেন, সে সমাজ পরিচালনা তো রাজনীতি করে থাকে। রাজনীতি ঠিক নিয়ম-নীতি। আপনি যে বাজার থেকে বস্ত্র-খাদ্য তথা আপনার প্রয়োজনীয় সামগ্রিক কিনেন- সেটা তো রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। আপনিও পরোক্ষভাবে কর দিয়ে থাকে। পণ্য কেনার মাধ্যমে।

আপনি যে প্রতিষ্ঠানে লেখা পড়া করেন, সে প্রতিষ্ঠান নিয়ম-নীতি এক কথায় পরিচালনা তো রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ঠিক করে থাকে। অর্থাৎ সরকার। সরকার মানে রাজনীতি। রাষ্ট্র মানে রাজনীতি। আপনার জন্য যে শিক্ষা কাঠামো তৈরি করেন, সেটা তো সরকার মানে রাজনীতি। আপনার পা থেকে মাথা পর্যন্ত যদি রাজনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে আপনি কিভাবে বলতে পারেন, যে আমি রাজনীতি বাইরে।

যে সমাজে, রাষ্ট্রের বসবাস করে কেউ চাইলেও রাজনীতি বাইরের থাকা যায় না। তাই রাজনীতি জানতে, বুঝতে এবং ব্যাখ্যার করতে চেষ্টা করুন। তবে জানার, বুঝার এবং ব্যাখ্যার জন্যও আপনাকে একটা দর্শন বা দৃষ্টিভঙ্গির তৈরি করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম যে জাতীয় এবং রাজনৈতিক সমস্যা সেটা জানার, বুঝার এবং ব্যাখ্যার যদি আপনি রাজনীতি ‘র’ না বুঝেন তাহলে কিভাবে বুঝতে পারবেন – পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা রূপ কি?সমস্যা রূপ যদি প্রধান সমস্যা ও সমস্যার কারণ ঠিক করতে না পারেন তাহলে কিভাবে সমাধান পথ খুঁজে পাবেন।

তাই আপনি রাজনৈতিক সচেতন এবং রাজনৈতিক জ্ঞান তৈরি করুন আগে। আপনি সাময়িক সুবিধা লাভ পেতে বৃহৎ জুম্ম স্বার্থকে নষ্ট করবেন না। এমন কাজ করবেন না, যা জুম্মস্বার্থ পরিপন্থী।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার উথোয়াইনু মারমা

I'm student.

মন্তব্য

  1. সুন্দর উপস্থাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।