ডাক

মা, ডাক এসেছে আবার!
আমাকে যেতে হবে মা!
কিসের ডাক, বাবা? কি হয়েছে আমাদের দেশের?
আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলছে।
আমাদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’র যথাযথ বাস্তবায়নের আন্দোলন চলছে, মা।
আমাকেও যেতে হবে। আন্দোলনের যোগ দিতে হবে।

মা, তোমার মেয়ে –
তুমাচিং, উম্রাচিং, নাউবাই, সুজাতা, সবিতা
তাদের আত্ম-চিৎকার আওয়াজ কি শুনতে পাও না, মা?
তাদেরকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।
তাদের রক্ত পাহাড়ে মিশে গেছে।
তাদের হত্যাকারীদের শাস্তি দাবিতে-
সুষ্ঠু-বিচার দাবিতে – প্রতিবাদ মিছিলে
আমাকে যোগ দিতে হবে, মা।

পুঁজিতন্ত্রে ছোঁয়ায় তোমার মেয়ে পণ্যায়ণ পরিণত হয়ে গেছে।
রাতের রজনীগন্ধা সে আজ।
রাতের গন্ধ ছড়ায়, ভোরের তার গন্ধ ফুরিয়ে যায়।

কিছু সভ্য মানুষ শহর থেকে এসেছে।
তাদের দেহ নিয়ে টেঁনে হিচড়ে করার জন্য।
তারা পাহাড়ি নারী মাংসপেশি স্বাদ পাওয়ার উম্মাত্ত।

তাদেরকে রক্ষা করা তোমার ছেলে ওপর বর্তায়।
আমাকে যেতে হবে। তাদেরকে বাঁচাতে হবে।
আর্শীবাদ কর মা, জীবন যুদ্ধে যেন জয়ী হয়ে ফিরতে পারি।

জাতির অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন চলছে।
সে আন্দোলনের যাবার ডাক এসেছে, মা।
আমাকে যেতে হবে।
তা না হলে আর কত তোমার মেয়েকে এভাবে মরতে হবে।
শহরে সভ্য মানুষে মাংসপেশি স্বাদের টেঁনে হিচড়ে ফাঁদে পড়তে হবে।

চলমান আন্দোলনের যতদিন না সফল হবে,
ততদিন আমাকে থেকে যেতে হবে, মা।
সেই আন্দোলনের, সেই মিছিলের, সেই যুদ্ধে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার উথোয়াইনু মারমা

I'm student.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।