ছবি: ঢাকা ট্রিব্রিউন বাংলা

ধর্মভীরু না ধর্মান্ধ!

()

পুরো বিশ্বের মত বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের আক্রমণে স্থবির জনজীবন। সরকারের পক্ষ থেকে কারফিউ জারি হয়েছে। জনসমাগম না করতে বলা হয়েছে। রাস্তায় পুলিশ,আর্মি দাঁড়ানো, কোন মানুষ পেলেই বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বাসায়।
এই সময় আলাদা যতটা থাকা যায় ততটাই কল্যাণকর সবার জন্য। একটু আলাদা থাকা ভেঙে দিতে পারে করোনার শেকল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, গার্মেন্টস, এবং অন্যান্য যা কিছু আছে সব কিছু বন্ধ অবস্থায় আছে।এর ফলে, বিপাকে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষেরা। তাদের উপার্জন নেই। দিনে এনে দিন খান। তাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে বহু সংগঠন।প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে মানুষ দান করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়াস চলছে।
কিন্তু আমরা বোধহয় সরকারকে এই দুর্যোগের মুহূর্তে সাহায্য করছি না। অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে যেখানে ঘরে নামাজ পড়ার জন্য উৎসাহিত করছে, এমনকি মক্কা ও মদিনাতেও সবকিছু বন্ধ রাখা হয়েছে সেখানে আমাদের দেশের মানুষ কিভাবে  শারীরিকভাবে একতাবদ্ধ হওয়া যায় সেই চিন্তা খুঁজে যাচ্ছে। পুলিশ প্রতিটি গলি গলি গিয়ে মানুষকে ঘরে পাঠাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ যাওয়ার পর, সেই আগের অবস্থা।

এছাড়া, ৯ এপ্রিলের রাতের কথা উল্লেখ করা যায়। এটি মুসলিমদের জন্য পবিত্র একটি রাত। এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সারারাত ইবাদত বন্দেগী করে কাটায়।কিন্তু, করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার সকল মসজিদ, মন্দির বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এবং সবাইকে ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। মসজিদ বন্ধ করা হলো যাতে মানুষ একত্রিত হয়ে ভাইরাসটি বৃদ্ধিতে সহায়তা না করে কিন্তু এদেশের জনগণ প্রত্যেকের বাসাকেই মসজিদ বানিয়ে দিল। আরো সুস্পষ্ট করে বললে,প্রত্যেক বাড়ির ছাদ মসজিদে পরিণত হলো। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ বা ধর্মভীরু কিন্তু এই সকল ঘটনা প্রমাণ করে মানুষ ধর্মান্ধ।ধর্মে, যেখানে বিশেষ প্রয়োজনে ঘরে নামাজ আদায়ের হুকুম দেয়া হয়েছে এবং মহামারীর সময় যে জায়গা আক্রান্ত সেই জায়গায় যেতে এবং ওই জায়গা থেকে কোথাও না যেতে বলা হয়েছে সেখানে  প্রত্যেক বাড়ির ছাদকে মসজিদ বানিয়ে ফেলা মানুষগুলোকে আর যাই হোক ধর্মভীরু বলে না।

এছাড়াও, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কিছু ধর্মীয় বক্তারা। তারা মানুষদের বুজাচ্ছে এই করোনা ভাইরাস মুসলিমদের জন্য নয় শুধু বিধর্মীদের জন্য। তারা বিবেক থেকে ধর্মীয় বক্তাদের বক্তৃতা থেকে প্রভাবিত হয়। এর ফলে, গ্রামের সাধারণ মানুষজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। গ্রাম,শহর, বাজার, কলকারখানা, গার্মেন্টস, সকল শিল্পকারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে করোনা ভাইরাসের কারণে। যদি আরো সুস্পষ্ট করে বলি তাহলে বলা  যায়, মানুষ যাতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মরে না যায় তার জন্য অর্থাৎ মানুষের জন্য। কিন্তু, সরকারের এই সকল ধর্মান্ধ কর্মকান্ড তা হতে দিচ্ছে না। মানুষ অধিক সংখ্যায় মারা গেলে সবার আগে দোষ পরবে সরকারের ঘাড়ে এদিকে মানুষ সরকারের কথা শুনছে না। জনগণ সচেতন না হলে এই রোগ নির্মূল করা যাবে না। প্রত্যেক মানুষকে তারা জায়গা থেকে ভাবতে হবে বিবেকের সাহায্যে ধর্মভীরু  হওয়ার মাধ্যমে কিন্তু ধর্মান্ধ হয়ে না।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ব্লগপোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার মো.ইকবাল হাসান

মো.ইকবাল হাসান, লেখাপড়া করছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: আমার কলম কপিরাইট আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল সুতরাং লেখা কপি করাকে নিরুৎসাহিত করে। লেখার নিচে শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করার জন্য আপনাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।