ধর্ম

()

ধর্ম না থাকলে “বেশ্যা” শব্দটা থাকতো না।ভালো,খারাপের কোন ধারণা থাকতো না।একটা পরিবেশের মানুষ যেমন ইচ্ছে তেমন চলাচল  করতে পারতো।অপ্রীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করেও…..!! ওহ, দুঃখিত, যেখানে ধর্ম নেই সেখানে প্রীতিকর, অপ্রীতিকর ধারণা আসে কোথা থেকে?
যে যা ইচ্ছা করতে পারতো কোন বাধা আসতো না।

বারবার “পারতো” শব্দের ব্যবহার প্রমান করে ধর্মের অস্তিত্ব এই সমাজে কিছুটা হলেও আছে। ধর্ম মানে নিয়ম। এই নিয়মের বেড়াজালে পাপগুলো বন্দি থাকলেও মনের প্রবল আবেগ,অনুভূতির মাধ্যমে এই নিয়মগুলো ভাঙা হচ্ছে বারবার।

একটা সমাজ যদি কোন ব্যবস্থা/নিয়ম-কানুনের মধ্যে দিয়ে না যায় তাহলে ধরে নিতে হবে সেই সমাজের কোনরকম ব্যবস্থা অর্থাৎ, নিয়ম-কানুন নেই যার ফলে প্রয়োজনের খাতিরে সমাজ নামক কোন একটা বস্তুর অস্তিত্ব থাকলেও কার্যকারিতা হারাবে।একটা সুস্পষ্ট ও সুনিদিষ্ট বিধিবিধানের অভাবে দাঙ্গা বেড়ে যাবে প্রয়াজন ফুরাবে ,সাথে সমাজও ফুরাবে।

তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এই সমাজ, এই ধর্ম অর্থাৎ পুরোনো যা কিছু আছে সব কিছু ভেঙে নতুন একটা রূপ দিতে চায় কিন্তু যেখানে নিয়মের বালাই নেই সেখানে নেতৃত্বকে মানার বালাই থাকবে কেন?

তাদের চিন্তাধারা অনেকটা পূর্বের ইয়ং বেঙ্গলের মত। আমরা জানি সেই সময়কার নব্য ইংরেজি শিক্ষিত গোষ্ঠীর চিন্তা-চেতনা সমাজে কিরকম প্রভাব ফেলেছে!

বারবার নিয়মের কথা চলে আসছে, তাহলে মানুষে মানুষে একটা গঠনতন্ত্র অর্থাৎ এক বান্ডিল নিয়ম বানালে কেমন হয়?
সেই নিয়ম না মানলে কি হবে?শাস্তি হবে কঠোর শাস্তি হবে,প্রয়োজনে মৃত্যুদন্ড হবে।যদি নিয়মের বেড়াজালে আটকাই তবেই না যতসব শাস্তি তার আগে যত অনাচার করা যায় ততই নিজের স্বার্থ হাসিল করা যায়।
আর যদি একদম গোড়াতেই  আঘাত করি তাহলে বলতে হয় এই দলছাড়া মানুষগুলো তাদের নিজেদের  জন্য কি আইনের ফাঁক রাখবে না?

লাগাম ছাড়া ঘোড়া যেমন কোন বাধা ছাড়াই চলতে পারে মানুষও ঠিক তেমনি চলতে পারবে নিয়ম ছাড়া।
আবার, কল্পনা করি যদি হটাৎ করেই সবাই ধর্ম বিশ্বাস না করা শুরু করে দেয় তাহলে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায়!
তাহলে ব্যাপারটা হটাৎ ছাড়া পাওয়া গরুর মত হয়ে যাবে যে কোন কিছু না বুঝেই দৌড়াবে পরবর্তীতে যখন বুঝতে পারবে ঠিক আগের জায়গায় আসবে।

যখন একজন নেতা গণতন্ত্রের নিয়মে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় তখন তার সকল ক্ষমতার উৎস থাকে জনগন।একটা নিয়মের উপরে দেশ চালানো হয়  সেটার নাম সংবিধান।কিন্তু যখন একজন নিজে নিজেই স্বৈরচারিতা শুরু করে তখন সে সর্বেসর্বা হয়। কারো কথার দাম তার দেবার প্রয়োজন হয় না।

একজন মানুষ যখন বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়ম বানাবে তখন সে নৈতিকতার ব্যাপারটা মাথায় রাখবে এবং সে নৈতিকতা ব্যাপারটা তার ভিতরে ইনপুট দেয়া ধর্মবিশ্বাস থেকেই নিবে।কিন্তু যখন নৈতিকতা লঙ্ঘনীয় কাজের সমালোচনা করা হয় ধর্মের ভিত্তিতে তখন শুনতে পাওয়া যায় ” সব কিছুতে ধর্ম টানা ঠিক না”।তাহলে যে সমাজটা একটা নিয়ম দিয়ে চলে সে সমাজে নিয়ম ভাঙার পর নিয়ম ভাঙার কথা বলাতে যদি উপরের বুলি শোনা যায় তাহলে  সেই সমাজের সকল মানুষ অন্যকোন গ্রহ থেকে এসেছে নাকি যারা এই কথাটা বলেছে তারা ভিন্ন কোন গ্রহ থেকে এসেছে।

ধর্ম বা নিয়ম একটা সমাজের দুয়েকজন না মানলে সমস্যা নেই কিন্তু পুরো সমাজ যদি না মানে তবে তাদের দৃষ্টিতে ভালো খারাপ কিছু না লক্ষ করলেও বর্তমান সমাজের দৃষ্টিতে সেটা দৃষ্টি কটু।আবার,সমাজের যারা নিয়ম মানে না তারা যদি অন্যকে প্ররোচনা দিতে থাকে তখন সেটা লেজ কাটা শেয়ালের মত হয়ে যায় যে চায় তার লেজের মত সবার লেজ হোক এবং সবাই “হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া” বলে চিৎকার করুক।
এরকম গোষ্ঠী  সম্পর্কে ধারণা এখনকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের  দেখলেই পাওয়া যায় তবে সবাই না কাউকে কাউকে।যারা সবাই রাত-বিরাতে “হুক্কা হুয়া ,হুক্কা হুয়া” বলে চিৎকার করতে থাকে।
সমাজ চালাতে গেলে যেমন ধর্ম বা নিয়ম থাকা দরকার তেমনি সমাজে থাকতে গেলেও সমাজের নিয়মগুলো মেনে চলাও দরকার।এক্ষেত্রে, সমাজ না মেনে চললে সেই “হুক্কা হুয়া” সম্প্রদায়ের দলভুক্ত হতে হবে।
সমাজ ব্যাক্তি জীবনে একটি দর্পনের মত কাজ করে, একদম নিজেকে দেখা যায়। মাঝে মাঝে উল্টাপাল্টা দেখা যায় কারণ দর্পন বা কাঁচ ঘোলা হয়ে যায়। এই অবস্থায়, ঘোলা অংশ পরিষ্কার করা অর্থাৎ যে নিয়মে সমস্যা দেখা দিয়েছে সেটা বদলানো জরুরি ,পুরো সমাজকে গোড়া থেকে কেটে বাদ দেয়া জরুরি না।
ধর্মের সৃষ্টি সমাজের মানুষের জন্য।আর,নিয়ম বা ধর্মের  মধ্য দিয়েই মানুষকে এগুতে হয় ছোট ছোট পায়ে।এই নিয়ম থেকে লাইনচ্যুত হলে রেলগাড়ির মত উল্টে চলে যায় খাদে।ধর্মে সমাজ প্রধান, মানুষ প্রধান, মানবতাও প্রধান শুধু নিয়মের ব্যাতিক্রম গৌণ।

নিয়ম ভেঙে বিপ্লবী হওয়া যায় তবে বিপ্লবী হওয়ার আগে শিক্ষা বড় দরকার।নিয়মের ভাঙ্গনে যেন নতুন নিয়ম পুরোনো নিয়মের মত ঘোলা না হয় উজ্জ্বল হয় সেই কামনা।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ব্লগপোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার মো.ইকবাল হাসান

মো.ইকবাল হাসান, লেখাপড়া করছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায়।

২ টি মন্তব্য

  1. সম্মানিত ব্লগার ব্লগ ব্যবহারনীতি পড়ে সঠিক ব্লগিং করার অনুরোধ রইলো।

    • মো.ইকবাল হাসান

      ধন্যবাদ,পরবর্তীতে মেনে চলার চেষ্টা করবো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।