ধর্ষণের বিচার করবে কারা?

()

বাংলাদেশে দিন দিন ধর্ষণের হার বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি হওয়ার কথাও। আজকে সারাদিন নিউজফিডে ঘুরছে ধর্ষিত চাকমা মেয়েটার ছবি। তার মা-বাবা দুইপাশে তাকে ধরে হাঁটিয়ে কোথাও একটা নিয়ে যাচ্ছে। নয়জন পুরুষ জোর করে যৌনতার স্বাদ মিটিয়েছে। যতবার দেখেছি, ইচ্ছে করেছে মোবাইল দূরে কোথাও ছুড়ে দিতে, ল্যাপটপ ভেঙে ফেলতে। কি জঘন্য। এই খবর শেষ হতে না হতেই আবার এম সি কলেজের গণধর্ষণের খবর টাইমলাইনে আসলো। স্বামীকে বেঁধে রেখে হোস্টেলে নিয়ে গিয়ে বউকে গ্যাং র‍্যাপ। আমরা দিন দিন কি অসভ্য হয়ে পড়ছি। রাষ্ট্র মূলত ধর্ষকদের পেট্রোনাইজ করে, করছে। শুধুমাত্র ধর্ষকদের নয়, সকল প্রকার অপরাধের পৃষ্টপোষক মাঝেমধ্যে রাষ্ট্র হয়ে থাকে। এটা এক ধরণের কৌশল, জনগণকে ব্যস্ত রাখার বা কথা বলতে দেওয়ার। পাহাড়ে একঝাঁক সেটেলার ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, শান্তি চুক্তিকে চুদে দিছে অনেক আগেই। ব্রিটিশরা আইন-আদালতকে কেবল রাষ্ট্রীয় ফ্যাশন হাউজ বানিয়ে রেখেছিলো, যেখানে দিন-রাত বিচারের অভিনয় চলতো আর মানুষ তা দেখে মনের খোরাক যোগাতো যা এখনো চলমান। ব্রিটিশরা ভাগ্যিস আইন কিছু তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিল, তাতে কোনরকমভাবে আইন মন্ত্রণালয় নানে একটা মন্ত্রনালয় চলছে। আইনে একটা টার্ম আছে জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড। এখন বিচারই যেখানে হয় না, ডিলের প্রশ্ন আর আসে কোথায়?

গুগলে গিয়ে স্রেপ সার্চ করুন ওয়ার্ল্ড রেপ রেট বাই কান্ট্রি, আপনার দেশ একদম প্রথম কাতারে। আমাদের রেপ র‍্যাংকিং এর দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। এক বাঙালি আইন গবেষকের মতে আইন ব্রিটিশরা দুটি পারপাসে তৈরি করেছিলো, প্রথমত তাদের ক্ষমতা দেখানোর জন্য যাতে সাধারণ মানুষ ভয়ে থাকে আর নিরবিচ্ছিন্নভাবে শাসন করা যায়। দ্বিতীয়ত, তৎকালীন ধর্মীয় বা শরীয়া আইনের বিলুপ্তি ঘটানো যাতে সহজেই শাস্তির বিধান না থাকে এবং তাদের কর্মচারী বাড়ে, মৃত্যুদন্ডকে তারা অমানবিক বলে আখ্যাও দিয়েছিলো। তারা তৎকালীন ধর্মীয় নেতাদের বুঝিয়েছিলো অপরাধের শাস্তি হিসেবে হাত-পা কেঁটে নেয়া, মৃত্যুদণ্ড, পাথর নিক্ষেপ বড় অমানবিক। আর এই সুযোগে তারা তৈরি করলো আধুনিক শাসনের ফাঁদ যে ফাঁদে এখনো পড়ে আছি আমরা। অপরাধ নির্মুল কখনোই তাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো না। নিবর্তন ও প্রতিশোধমূলক বিচার ব্যবস্থায় একটি সমাজে কখনোই অপরাধ কমে না। বরং প্রতিশোধ প্রতিশোধের জন্ম দিয়ে নতুন ধাচের অপরাধ সৃষ্টি করে।

দিন দিন বাংলাদেশসহ পাশের দেশ ভারতে নানান নতুন অপরাধ সৃষ্টি হচ্ছে। অপরাধ দমনে আইনের ভূমিকা অনেক বেশি প্রশ্নবিদ্ধ। একটি ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম শেষ হতে যে পরিমাণে সময় লাগে এবং যা শাস্তি, তা নিশ্চিত কোন অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখতে পারে না। উন্নত দেশগুলোতে শাস্তির পাশাপাশি তাদের লক্ষ্য থাকে অপরাধীকে মানসিক সংশোধনের মাধ্যমে আবারো মেইনস্ট্রিমে ফিরিয়ে দেওয়া। এটাকে শাস্তি না বলে পজিটিভ মেন্টাল থেরাপি বলা যায়। ক্লিনিক্যাল সাইক্রিয়াট্রিস্ট দ্বারা তাদের নিয়মিত সুস্থ করে তোলার ব্যবস্থা। বাংলাদেশে যে টাইপের ধর্ষণ বর্তমানে হচ্ছে তার মূল কারণ ধর্মীয় গোড়ামী এবং প্রপার সেক্স এডুকেশনের অভাব। সেক্স মিডলিস্ট কান্ট্রিগুলোতে একধরণের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার খাবারের মতো হয়ে উঠছে। আর সেক্স স্বাভাবিকভাবে না মিললে অপোজিশনকে জোর করা হচ্ছে, আমরা যার নাম দিয়েছি রেপ।

বর্তমানে বাংলাদেশে রেপ রেট কমানোর কয়েকটি সহজ রাস্তা আছে। তারমধ্যে প্রধান ও অন্যতম হলো দীর্ঘমেয়াদি নট এডাল্টদের পাঠ্য বইয়ে সেক্স এডুকেশন যুক্ত করা যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এরকম ঘটনার স্বীকার না হয়। তাদের বুঝাতে হবে যে কেউ স্ব-ইচ্ছায় সেক্স করতে না চাইলে জোর করে সেক্স করতে চাওয়াটা ভালো না, এটা নৈতিকতা বিরোধী অপরাধ। এরপর যেটা হয়েছে, ধর্মীয় আশকারা পেয়ে বাংলাদেশে ঘরে ঘরে বর্তমানে অনেকগুলোই ধর্ষক তৈরি হয়ে আছে। বাংলাদেশের ম্যাংগো পিউপল যেহেতু কঠোর শাস্তিতে বিশ্বাসী ও ভয় পায়, সেহেতু ধর্ষণের অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আরো কঠোর এবং সহজ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমার রিকমেন্ডেশন হলো বাংলাদেশে বর্তমানে যত পর্ণ সাইট ব্লক করা আছে সেসব অবমুক্ত করে দেওয়া, যাতে পুরুষগণের যৌন ইন্দ্রিয় জাগ্রত হলে পর্ণ ভিডিও দেখতে দেখতে মাস্টারবেশন বা হাত মারতে পারে আর নিজের শিশ্নকে শান্ত করে রাখতে পারে। বীর্যগুলো ফেলার একটা সিস্টেম অন্তত তৈরি হোক। তারপরেও পুরুষের ধর্ষণবোধ যদি কমে বিশ্ব রেপ র‍্যাংকিং থেকে আমরা আমাদের দেশের নাম একটু নিচুতে নামিয়ে আনতে পারবো।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ব্লগপোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার শিপ্ত বড়ুয়া

পৃথিবীর পথে গন্তব্যহীন পরিব্রাজক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: আমার কলম কপিরাইট আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল সুতরাং লেখা কপি করাকে নিরুৎসাহিত করে। লেখার নিচে শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করার জন্য আপনাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।