নারীকে দাসী হিসেবে গড়ে উঠার শিক্ষা দিচ্ছে বই

()

অষ্টম শ্রেণীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি বইয়ের ১১১ নম্বর পৃষ্টায় দেখেন, নারী অধিকার কিভাবে খর্বিত হয়েছে, নারীকে কিভাবে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। এমন পোশাক পড়া যাবে না যেটি পুরুষের কাম জাগ্রত করে, ইভটিজিং করলে তার প্রতিবাদ করা উচিৎ নয় এতে ক্ষতি হতে পারে, নারীদের কাজ ঘরে রান্না করাসহ নারী আক্রান্ত হয়েছে পুরুষতন্ত্রের যাঁতাকলে।

এই পাঠ্যবইগুলোর উপর এরকম আগ্রাসন বরাবরই দেশ শত বছর পিছনে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে। ১ম থেকে ১০ম শ্রেণীর পাঠ্যবইগুলোর মধ্যে নানান কৌশলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে এককেন্দ্রিকরণ এবং উগ্র ধর্মান্ধতা। গার্হস্থ্য অর্থনীতি বইয়ে অর্থনীতির ছিটেফোঁটা ও নেই। পুরো গার্হস্থ্য অর্থনীতি বইটি জুড়ে মেয়েদের শিখানো হয় মেয়ে মানেই ঘরের সুকেস, মেয়ে মানেই ঘরের কাজের বুয়া। মেয়েদের কাজ শুধু ঘরের ভেতরেই, ঘর থেকে মেয়েদের বের হওয়া গার্হস্থ্য অর্থনীতি শিখাচ্ছে না।

এই বইটি পড়ে মেয়েদের মন আরো বেশি কেন্দ্রীভূত হবে, মেয়েদের চিন্তাশক্তি এবং উন্নতি কোনভাবেই ঘটবে না। ঠিক একটি চক্র অনেক কু-বুদ্ধি নিয়ে ঠান্ডা মাথায় নারী – পুরুষের বিরাট বৈষম্য সৃষ্টি করে দিচ্ছে। একটি মেয়ে কিরকম পোশাক পড়বে সেটা পাঠ্যবই কেনো নির্ধারণ করে দিবে? একটি মেয়ের ইচ্ছে হলে সে বিকিনি পড়বে অথবা ইচ্ছে হলে নাক-মুখ ঢেকে বোরকা পড়বে, সেটা নিছক তার একান্ত ইচ্ছা। নানান কায়দায় আরো অনেক পাঠ্যবইয়ে এরকম পরিবর্তন করা হয়েছে যা আমাদের চোখে পড়ছে না। ১ম থেকে ১০ম শ্রেণী একজন ছেলে অথবা মেয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়, এই সময়ে ছেলে – মেয়েদের সারাজীবনের সংস্কৃতি জীবনাচরণ গড়ে উঠে। যদি এই সময়েই ছেলে – মেয়েদের এরকম পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে চিন্তাশক্তি রোধ করা হয় তাহলে আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ বেশ অন্ধকার।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীকে অনেক আগে থেকেই দাসী বানিয়ে রেখেছে, তৈরি করেছে ঘরের কাজের বুয়া হিসেবে। এই সমাজই নারীকে মনে করে যৌন বস্তু। বিশেষ করে নারীকে এই সমাজে দাসী হিসেবে তৈরি করার পেছনে খুব বেশি অবদান ধর্মীয় অপসংস্কৃতির, এবং নানান ধর্মীয় গোঁড়ামি নারীকে বন্ধী করেছে ঘরে। কিছু প্রগতিশীল লেখক এবং কবিদের অবদানে নারীরা আবারো স্বপ্ন দেখতে শিখেছিলো, শৃঙ্খল ভাঙা শিখেছিলো কিন্তু পাকিস্তানি আগ্রাসন আমাদের নারীদের আবারো মানুষ থেকে নারীতে পরিণত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ভাবতে অবাক লাগে একসময়কার ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেব পাঠ্যপুস্তকের উপর এই পাকিস্তানি আগ্রাসন যেনো দেখতেই পান না। একজন তুখোড় ছাত্রনেতা কিভাবে এইসব এককেন্দ্রিকরণ সহ্য করেন!

পরিশেষে বলবো খুব দ্রুত যদি সাধারণ পাঠ্যবইয়ের উপর এই আমূল পরিবর্তন কারো চোখে না পড়ে তাহলে বাংলাস্তান আবারো পাকিস্তান হতে বেশি সময় লাগবে না। পুরো গার্হস্থ্য অর্থনীতি বইজুড়ে নারীদের দাসী বানানোর একটি ছক আঁকা আছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বই বাদ দেওয়া না হলে বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার। এখনই সময়, প্রগতির পথে হাঁটার, এখনই সময় নারী – পুরুষের সমান অধিকার অর্জনের।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ব্লগপোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার শিপ্ত বড়ুয়া

পৃথিবীর পথে গন্তব্যহীন পরিব্রাজক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।