পরকীয়া অপরাধ, আত্মহত্যা সমাধান নয়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ গালাগাল চলছে আকাশ-মিতু টপিক নিয়ে। একপক্ষ যেমন আকাশের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে লিখছেন অন্য আরেক পক্ষ লিখছেন মিতুর পক্ষে। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া কয়েকটা ছবি আর ভিডিও নিয়ে ফেসবুকবাসী সহজ বিচার করে জাজমেন্ট দিয়েও দিচ্ছেন। মিতু নিজের মুখে স্বীকার করেছে তার পরকীয়ার কথা। অন্যদিকে ডা: আকাশের স্যুইসাইড নোট পড়ে দেখা যায় মিতুর পরকীয়া সে বিয়ের অনেক আগে থেকেই জানতো এবং চক্ষুলজ্জা তাকে প্রকাশ করতে দেয়নি।


মূল প্রসঙ্গে আসা যাক, আইনে পরকীয়া অপরাধ, দণ্ডবিধির ধারা ৪৯৩ থেকে ৪৯৮ ধারায় বিবাহ সম্পর্কিত অপরাধ সম্বন্ধীয় ব্যাখ্যা আছে বিশদভাবে। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেও পরকীয়া সংসারের ক্ষেত্রে বড় একটি অপরাধ। আকাশ বিয়ের আগে থেকেই জানতো মিতু পরকীয়ায় লিপ্ত, মানলাম ভালোবাসার কারণে সে সব মেনে নিয়ে বিয়ে করলো। বিয়ের পরেও যখন আকাশ কয়েক দফায় জানতে পারলো মিতু এখনো নিয়মিত অন্য পুরুষের সাথে বেড শেয়ার করছে তারপরেও কেনো সে পারিবারিক বা আইনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি?


এই প্রশ্নের সাথে সাথে প্রশ্ন আসে কাবিননামার টাকার কি হবে! মুসলিম ফ্যামিলি কোর্ট অর্ডিন্যান্স এর মাধ্যমে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই কিন্তু পারিবারিক সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা আছে। আইন প্রমাণের উপর চলে। ডা: সাহেবের যেহেতু মিতুর পরকীয়া নিয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রামাণ ছিলো, চেষ্টা করলেই সে কোন না কোনভাবেই পারিবারিকভাবে অথবা আইনিভাবে সমস্যার ইতি টানতে পারতেন। কিন্তু তা তিনি করেন নি।


বরং বেঁচে নিয়েছেন আত্মহননের পথ। বেশিরভাগ ফেসবুক পাবলিক আকাশকে বাহবা দিচ্ছেন মৃত্যুর পরও আর বিশ্রী ভাষায় যে যেখানে পারছেন কমেন্টসে মিতুকে গালাগাল দিচ্ছেন, এটা অবশ্য ভদ্রতা নয়। মানসিক বিশেষজ্ঞদের মতে একজন স্বাভাবিক মানুষ আত্মহত্যার অনেক আগে থেকেই নানান মানসিক সমস্যায় ভোগেন যা রীতিমতো চিকিৎসার দরকার। ডা: আকাশ যে মানসিক সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন তা সন্দেহাতীত। একজন মানুষ কিছুক্ষণ পর মারা যাবে তাও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে অনলাইনে স্ট্যাটাস দিয়ে। বিষয়টা একবার ভেবে দেখুন।
কোনভাবেই আমি মিতুর পক্ষ নিচ্ছি না। মিতু যা করেছে অবশ্যই গুরুতর অপরাধ। এটার জন্য তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। আবার ডা: আকাশ আত্মহত্যা করে যে সমস্যার ইতি টানতে চেয়েছেন তা আসলেই ইতি তিনি টানতে পেয়েছেন কিনা?


এ সমাজ পুরুষতান্ত্রিক। বেশিরভাগ পুরুষ পরকীয়া করে, নারী তার মধ্যে নগণ্য পরকীয়া করে। পরকীয়া করার সুযোগ খুবই কম নারীর হয়ে উঠে। বেশিরভাগ বিবাহিত পুরুষের দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রেমের কথা তাদের ঘরণীরা জানার পরেও চুপ থাকে সংসার টেকানোর জন্যে। সুতরাং লক্ষ লক্ষ মিতু আমাদের পুরুষদের মধ্যে বিদ্যমান যা অপ্রকাশিত। মিতুকে যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্রমণ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ জেন্ডারভিত্তিক আক্রমণ, অপরাধ করেছে বলে আক্রমণ নয় শুধু।


আত্মহত্যা কখনোই সমাধান নয়, বরং মানসিক চিকিৎসাযোগ্য একটি রোগ। আকাশের আত্মহত্যাকে যারা অনায়াসে বীরত্বের স্বীকৃতি দিচ্ছেন দ্রুত আপনার মাথার চিকিৎসা করান নাহয় আত্মহত্যা ছোঁয়াচে রোগে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার শিপ্ত বড়ুয়া

শূন্য দশকের অপরাধ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।