পরিবহন ব্যবস্থা এবং নারী

গত ৮ তারিখ বিশেষ প্রয়োজনে ঢাকা গেছিলাম এবং ১০ তারিখে ব্যাক করছি। আমি আসার দিন জিগাতলা বাস স্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম। একটা বাস আসে আর সব মানুষ হুমড়ে পড়ে। আমার কাঁধে ভারী ব্যাগ ছিলো তাই আমিও এগোচ্ছিলাম না। একটা মেয়েকে দেখলাম বাসের জন্য দাঁড়াই রইছে। বাস আসে সে এগিয়ে যায় কিন্তু এতো পুরুষের ভিড়ে তার আর বাসে উঠা হয় না। আমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম। তারপর পিছন দিকে গিয়ে বাসে উঠছিলাম। কিন্তু মেয়েটা বাসে উঠতে পেরেছে? না পারে নাই। হয়তো শেষে রিকশা দিয়েই তার গন্তব্যে যাওয়া লাগবে। এভাবে একটা মেয়ে যদি প্রতিদিন রিকশা দিয়ে চলাচল করে তাহলে টাকার বেশীরভাগ অংশ রিকশা ভাড়ার পিছনেই চলে যাবে। ঢাকা শহরে গনপরিবহনের খুব অভাব। পুরুষরা ঝুলে কষ্ট করে যেতে পারলেও নারীরা কিন্তু পারছেনা। গনপরিবহন বাড়ানো খুব প্রয়োজন।

এখন কথা হচ্ছে গনপরিবহন চলবে কোথায়,জ্যাম তো আরো বাড়বে। আপনি জানেন কি ঢাকা শহরে অনুমোদিত রিকশা কতটি আর চলছে কতটি। অনুমোদিত রিকশার সংখ্যা ৮৭ হাজার। আর ঢাকার রাস্তায় এখন রিকশার সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। জ্যামের জন্য অন্যতম দায়ী হিসেবে নগরবিদরা এই রিকশাকে চিহ্নিত করছে। যেসব রাস্তায় অবাধ গনপরিবহন চলে সেসব রাস্তায় তো রিকশার বেশী প্রয়োজন না।সেখানে রিকশা কমিয়ে গনপরিবহন বাড়ানো সেটাই তো ভালো। যেসব রাস্তায় বড় গাড়ি চলতে সমস্যা সেখানে রিকশার অবাধ চলাচল থাকতে পারে। আমি মনে করি ঢাকা শহরে রিকশার সংখ্যা অর্ধেক কমিয়ে ফেলা উচিত এবং গনপরিবহন বাড়ানো এতে করে জ্যাম কমবে বলে আশা করি। আরেকটা কথা হচ্ছে মহিলাদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস ঢাকাতে খুব প্রয়োজন। এব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়া দরকার। আর যে শহরে মানুষ বাসে দাঁড়াতে পারেনা,সে শহরে এত সিটিং সার্ভিস বাসের কি প্রয়োজন বুঝিনা। সিটিং সার্ভিস কমিয়ে লোকাল সার্ভিস বাড়ানো খুব প্রয়োজন।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার আরাফাত এইচ রাশেদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।