পাহাড়ের প্রশ্ন, ধর্ষকেরও জাত আছে, ধর্ম আছে

বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করার পর থেকে পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন পদ্ধতিতে, বিভিন্ন কৌশলের পাহাড়ীদের ওপর শোষণ, শাসন, নির্যাতন, নিপীড়ন করে আসছে। বাংলাদেশ এখন পাকি শাসনের কায়দা শাসন, শোষণ করছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। পার্বত্য চট্টগ্রাম হচ্ছে বাংলাদেশ উপনিবেশ শাসন। বাংলাদেশ নিজকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে দাবি করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে “অপারেশন উত্তোলণ” নামক জারি করে সেনাশাসন কায়েম করে রেখেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রনীতি “এথনিক ক্লিনজিং পলিসি” নিঁখুতভাবে বাস্তবায়ন করে চলেছে। অনেক পাহাড়ী তথা জনপ্রতিনিধিরা জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে রাষ্ট্রের সেই নীতিকে বাস্তবায়নের সহযোগিতা করে চলেছে। আমরা এইও দেখেছি, মায়ানমারে সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত শাসন, শোষন, দমন-পীড়ন সময় বাংলাদেশের তথাকথিত মানবতাবাদী নামধারী মানুষকে মানবতা দেখাতে। কিন্তু পার্বত্যাঞ্চলের প্রশ্নে, তথা জাতিগত শাসন, শোষণ, দমন-পীড়ন, নির্যাতন প্রশ্নে, সেই নামধারী মানবতারা বোবা, কানা, বধির হয়ে যায়। তখন পাহাড়ীদের আর্তনাদ শুনতে পায় না, নির্যাতন, নিপীড়ন চিত্র দেখতে পায় না।

পাহাড়ে জাতিগত নিপীড়ন, নির্যাতন তথা জাতিগত নির্মূলীকরণে(এথনিক ক্লিনজিং পলিসি) শিকার হয় প্রথমমত বেশিরভাগ নারীর। অর্থাৎ তাদের টার্গেট নারীর ওপর তথা নারীর ওপর সহিংসতা বেশি করা হয়। হয় ধর্ষণ নয়তো লাভ জিহাদ। দ্বিতীয়ত তাদের টার্গেট হচ্ছে ভূমির ওপর। এগুলো হচ্ছে জাতিগত নির্মূলীকরণে এক একটি অংশ। পাহাড়ে নারীর ওপর সহিংসতা তথা ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষণ পর হত্যা এবং ভূমিবেদখল ইত্যাদি হচ্ছে দু’টি কারণ থেকে হয়ে থাকে আমার ধারণা মতে। একটি হচ্ছে
ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির এবং অপরটি হচ্ছে পাহাড়ের রাষ্ট্রনীতি তথা রাজনীতি।

স্বাধীনতা পর পর থেকে আজ অব্দি পার্বত্যাঞ্চলের সেনা-সেটেলার বাঙালির কর্তৃক ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ঘটনাগুলোকে একটাও সুষ্ঠুতদন্ত করে ধর্ষককে দৃষ্টান্তমূলস্তি ব বিচার করার হয়নি। এভাবে বিচারহীনতা রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করে রেখে রাষ্ট্র। কেন ধর্ষকদের বিচার করা হয়নি? কেন প্রশাসন ধর্ষককে পক্ষে অবস্থান নিয়ে থাকে? সেগুলো পাহাড়ে প্রশ্নে, রাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষণ করে পাওয়া যায়। ধর্ষিতদের সাথে রাষ্ট্র তথা সরকার ব্যবহার দেখে রাষ্ট্রনীতি বুঝা যায়, রাষ্ট্র চরিত্র বুঝা যায়। এখানে বুঝা যায় পাহাড়ে প্রশ্নে, ধর্ষককেও জাত আছে, ধর্ম আছে, বর্ণ আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিগত নিপীড়ন, নির্যাতন শাসন, শোষণ চলছে। “এথনিক ক্লিনজিং পলিসি” নীতি প্রয়োগ করে চলছে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার উথোয়াইনু মারমা

I'm student.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।