ভারতীয় পুরাণে কাল

ক্ষুদ্রতম, অবিভাজ্য এবং দেহরূপে যার গঠন হয় না তাই পরমাণু। পরমাণু অদৃশ্য অস্তিত্ব। প্রলয়ের পরেও তা বিদ্যমান থাকে। পরমাণু সমন্বিত শরীরের গতিই কালের গণনা।
পুরাণ অনুযায়ী পৃথিবীতে কালের প্রামাণিক গতি সূর্যেরই গতি। একটি পরমাণুকে অতিক্রম করতে সূর্যের যেটুকু সময় লাগে তাই হলো পারমাণবিক কাল।
স্থূল অথবা সুক্ষ্ম যাই বলা হোক না কেন, সেই কালকে গণনার আছে এক বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক এবং আধ্যাত্মিক ব্যবচ্ছেদ। যা ধারাবাহিক, যা অসাধারণ।
প্রাচীন ভারতীয় বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে :
২ পরমাণুতে ১ অণু
৩ অণুতে ১ ত্রসরেণু
৩ ত্রসরেণুতে ১ ত্রুটি
১০০ ত্রুটিতে ১ বেধ
৩ বেধে ১লব
৩ লবে ১ নিমেষ
৩ নিমেষে ১ ক্ষণ
৫ ক্ষণে ১ কাষ্ঠা বা ৮ সেকেন্ড
১৫ কাষ্ঠায় ১ লঘু বা ২ মিনিট
১৫ লঘুতে ১ দণ্ড বা ৩০ মিনিট
২ দণ্ডে ১ মুহূর্ত বা ১ ঘন্টা
৬ দণ্ডে ১ প্রহর বা ৩ ঘন্টা
৪ প্রহরে ১ দিন বা ১ রাত
১৫ দিনরাতে ১ পক্ষ
২ পক্ষে ১ মাস
২ মাসে ১ ঋতু
৬ মাসে ১ অয়ন
২ অয়নে ১ বছর।
এছাড়া,
পৃথিবীতে ১ বছর পিতৃলোকে ১২ ঘন্টা
মর্তলোকে ১ বছর হলে দেবলোকে ২৪ ঘন্টা হয়
মর্তলোকে ৩৬০ বছর হলে স্বর্গের ১ বছর হয়।

পৃথিবীর হিসাবে,
কলিযুগের স্থিতিকাল ৪ লক্ষ ৩২ হাজার বছর
দ্বাপর যুগের স্থিতিকাল ৮ লক্ষ ৬৪ হাজার বছর
ত্রেতাযুগের স্থিতিকাল ১২ লক্ষ ৯৬ হাজার বছর
সত্যযুগের স্থিতিকাল ১৭ লক্ষ ২৮ হাজার বছর।

এভাবে,
১ চতুর্যুগের স্থিতিকাল ৪৩ লক্ষ ২০ হাজার বছর
৭১ চতুর্যুগের স্থিতিকাল ৩০ কোটি ৬৭ লক্ষ ২০ হাজার বছর বা এক মন্বত্বর বা একজন মনুর রাজত্বকাল
১৪ মন্বত্বরে বা ৪২৯ কোটি ৪০ লক্ষ ৮০ হাজার বছরে ব্রহ্মার ১২ ঘন্টা।

ব্রহ্মার ১২ ঘন্টার দিবাভাগ অবসান হলে রাত্রি। এর শুরুটাই প্রলয়কাল।
প্রত্যেক মনুর জীবনের সমাপ্তিও খন্ড প্রলয়ের কারণ।
ব্রহ্মার দিবাভাগের সমাপ্তি সময়ে বিশ্বকে নিজের মধ্যে ধ্বংস করে অনন্ত সময়ের শয়নে যান নারায়ণ। তখন ব্রহ্মাও নারায়ণের ভেতর অবস্থান করেন। এটিকে বলে নৈমিত্তিক প্রলয়।
ব্রহ্মাকাল শেষ হলে আর তিনটি প্রলয় হয়। এগুলো হচ্ছে, মহত্তত্ত্ব, অহংকার এবং পঞ্চতম্মাত্র। কালের এই সময়কে প্রাকৃতিক প্রলয় বলে।

সমগ্র সৃষ্টির স্থিতিকাল মহাবিষ্ণুর একটি শ্বাসমাত্র।
একটি শ্বাসত্যাগ থেকে শ্বাস গ্রহণ করা পর্যন্ত যে সময় সেই মহাবিশ্বের প্রকাশের সময়।
শ্বাসগ্রহণের সাথে সাথে সমস্ত সৃষ্টি মহাবিষ্ণুর শরীরে ফিরে যায়। এটাই মহাপ্রলয়।

শাশ্বত কাল জড়াপ্রকৃতির পারস্পরিক ক্রিয়ার আদি উৎস। প্রকৃত বিচারে কালের আদি নেই, অন্তও নেই। সময় আমাদের ইন্দ্রিয়সমূহের যে কীর্তিকলাপ তারই মাপকাঠি। কালের এই সুসংবদ্ধ কার্যকলাপ নিত্য। জগতের প্রকাশ ক্ষণস্থায়ী। তবে মিথ্যা নয় অবশ্যই।

– দিয়ার্ষি আরাগ

সাহায্যকারী গ্রন্থ :
১. রুবাইয়াৎ ই ওমর খৈয়াম, শফিকুর রহমান, ভূমিকা অংশ।
২. জগতে আমরা কোথায়?, শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ।
৩. আর্য বনাম অনার্য দর্শন, শফিকুর রহমান।
৪. A History of Indian Philosophy, Dr. Revati Das .
৫. গ্রীক দর্শন : প্রজ্ঞা ও প্রসার, অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ।
৬.
The Discovery of India, Pandit Jawsharlal Nehru .
৭. Hinduism, Dr. A. C. Bouquet.

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার দিয়ার্ষি আরাগ

মন্তব্য

  1. কোন বইগুলো?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।