রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে

#রোহিঙ্গা! মনে আছে, বন্ধু?

রোহিঙ্গারা নাকি চরম খারাপ, কুকুরেরও অধম?
ওদের জন্মেই কি দোষ আছে?
শালারা আবার মুসলিমও! এটাও তো বড় অপরাধ, তাই না?
ছিনতাই ধর্ষণ চুরি ডাকাতিতে এরা বিশ্বসেরা, এই তো?
এদের বাচ্চারাও কি সব জানোয়ারের বাচ্চা?
রোহিঙ্গা নারীরা বুঝি ডাইনীর চেয়েও খারাপ!

এইসব নরপশু রোহিঙ্গাদের মরাই উচিত, তাই না ?
মরেছে এরা সমুদ্রে ডুবে,
মরেছে এরা বুলেটের আঘাতে, ছুরিকাঘাতে,
মরেছে দুর্গম পাহাড়ে না খেয়ে খেয়ে,
মরেছে এরা শীতে বৃষ্টিতে।
আর এখন ধীরে ধীরে নিঃচিহ্ন হওয়ার পথে হাঁটছে এই উপজাতি গোষ্ঠীটি।
যদি ভালোর সঙ্গে মিশে যায় ভালো,কিন্ত যদি খারাপের সঙ্গে মিশে যায়? খারাপ, চরম খারাপ।

এরা কেন দরিদ্র হলো?
কেন অসভ্যগুলো আলোকিত হতে পারলো না?
এদের এই অধঃপতনের জন্য কি শুধু এরাই দায়ী?
এই সমাজ, এই ধর্ম, এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা, এই বিশ্ব ব্যবস্থা একটুও দায়ী নয়?

এদের প্রয়োজন ছিল সুশিক্ষা, আমরা কোনো শিক্ষাইই দিই নি! স্কুল দিই নি, বই দিই নি, বরং সুযোগ পেলেই এদের দিয়েছি কুশিক্ষা।
এদের প্রয়োজন ছিল সংস্কৃতির বিকাশ, আমরা ধরিয়ে দিয়েছি ধর্ম বই। এরা পিছিয়ে গেছে দেড় হাজার বছর।
এদের প্রয়োজন ছিল বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, আমরা ধরিয়ে দিয়েছি অস্ত্র। এরা হয়েছে সন্ত্রাসী।
এদের প্রয়োজন ছিল আলো, আমরা রেখেছি অন্ধকারে। এরা আলো দেখলে ভয় পায়।
ওদের প্রয়োজন ছিল সুষ্ঠু কর্মসংস্থান, আমরা লাগিয়ে দিয়েছি মাদক ব্যবসায়। এরা হয়ে গেছে অপরাধী।
সর্বোপরি, এদের ভালবাসার অভাব ছিল, আমরা করেছি ঘৃণা। এরা বেড়ে উঠছে হিংস্রতা নিয়ে।
এই ধর্ম, রাষ্ট্র ও তথাকথিত বিশ্বসভ্যতার করুণ শিকার রোহিঙ্গা মুসলমান।

এদের ভুলে গেছি আমরা সবাই!
যারা এদেরকে জাতভাই বলে কান্নাকাটি করে করে সাগর বইয়ে দিয়েছিল, সেই ভণ্ড মোল্লাগুলোও এখন রোহিঙ্গা শব্দটি গালি হিসেবে ব্যবহার করে। তথাকথিত মুসলিম ভ্রাতৃত্বও যে কত বড় ইতরামি তা এই ঘটনাও একটা বড় প্রমাণ। রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে এদের আচরণ দেখলে তা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। হুজুরদের সঙ্গে হোটেলে ধরা পড়ে রোহিঙ্গা নারী। বাহ্!

আমরা তাদেরকে নিয়ে আর ভাবি না। তবে হ্যাঁ, শুধু যদি তারা কোনো অপরাধ করে তবেই আমরা শুধু তাদের মনে করি, তাদের জাত তুলে নিন্দার ঝড় তুলি সম্মিলিতভাবে। এই বুঝি মানবতা?
শান্তির জন্য নোবেল বাঙালি পেয়েছে! সেই শান্তি আজও নীরব।
শান্তির জন্য নোবেল বার্মিজরাও পেয়েছে! ওখানে শান্তির পায়রা আকাশ থেকে এখনও গুলি বর্ষণ করে রোহিঙ্গা পল্লীতে।
আমরা সবাই ভদ্রলোক, কেন এই পশুদের জন্য বৃথা সময় অপচয় করব, বলুন!
চলুন, এই চমৎকার অবসরে
আমরা আরও একটা শান্তি ও মানবতার মেনুফেস্টো রচনা করে ফেলি!

গরীবের পকেট কেটে সস্তায় শান্তির নোবেল পেলে
কে আর হতে চাইবে রবীন্দ্রনাথ!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার দিয়ার্ষি আরাগ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।