ল ইজ নট ইউর প্লে ট্র‍্যাক

()

সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম দুইজন সাক্ষী এবং সেসময়কার ভিকটিম শিপ্রা দেবনাথ ও সিফাত। সিফাত মামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী এবং সে সিনহা হত্যা মামলার প্রকৃত বিচার হওয়ার প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। অন্যদিকে শিপ্রা ঘটনার সময় নীলিমা রিসোর্টে ছিলো। সিনহাকে হত্যার পর নীলিমা রিসোর্ট থেকে আটক হন শিপ্রা ও তাহসিন। তাদের আটক করলো কারা? রামু থানা। যদিও নিলীমা রিসোর্টের অবস্থান ভৌগলিকভাবে কক্সবাজার সমুদ্রের পাশেই কিন্তু এলাকা ভাগ অনুসারে রামু থানায় অধীন এই এলাকা। রামু থানার অধীন হলেও রামু থানা থেকে নীলিমা রিসোর্ট এর দুরত্ব অনেক বেশি, ধরা যায় পূর্ব-পশ্চিম দিক থেকে নীলিমা রিসোর্ট সর্ব পশ্চিমের শেষ সীমান্তে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে রামু থানাকে নীলিমা রিসোর্টে মাদকের ব্যাপারে অবহিত করলো কারা, নিশ্চয় সিনহা হত্যায় যারা সংশ্লিষ্ট তারাই। ভালো ভালোই কালক্ষেপণ না করে রামু থানা পুলিশ নীলিমা রিসোর্টে গিয়ে শিপ্রা ও তাহসিনের দুজনের রুম থেকে বেশ কিছু জিনিস জব্দ করে এবং তাদের দুজনকে আটক করে রামু থানায় নিয়ে যায়। সেসময় শিপ্রার বিরুদ্ধে রামু থানায় মাদক মামলা টুকে দেয় পুলিশ। যে মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে সে একই মামলার সিজার লিস্টে (জব্দ তালিকায়) পুলিশ জব্দকৃত মালামাল এর বিবরণে মদের বোতল, গাজা, হাবিজাবির বিবরণ থাকলেও কিছু মালামালের বিবরণ লিপিবদ্ধ করেননি। যার মধ্যে রয়েছে মনিটর, পোর্টেবল হার্ডডিস্ক, সিপিও, ক্যামেরা লেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল।

পরে ঘটনাক্রমে জমুনা নিউজের বরাতে গতকাল জানতে পারি পুলিশ আলাদা জিডি করে নাকি সেসব মালামাল জব্দ দেখিয়েছে। প্রশ্ন হলো যে মামলায় রামু থানা পুলিশ শিপ্রাকে গ্রেফতার করেছে সে মামলার জব্দ তালিকায় হার্ডড্রাইভসহ গুরুত্বপূর্ণ জব্দকৃত মালামালের উল্লেখ নেই কেনো? এতদিন পর কেনো আলাদা জিডি করে এসব জব্দ দেখালো? তার উপর শিপ্রা দেবনাথ গত কয়েকদিন থেকে তার ব্যক্তিগত মুহুর্তের কিছু ছবি নিয়ে সাইবার এট্যাক ও বুলিং এর শিকার হচ্ছেন। তার ব্যক্তিগত এবং একান্ত ব্যক্তিগত কিছু ছবি ফেসবুকে ঘুরছে। এ নিয়ে শিপ্রার দাবী এই ছবিগুলো নীলিমা রিসোর্ট থেকে উধাও হওয়া হার্ডড্রাইভে ছিলো এবং এখানকার অনেক ছবি বানানো বা ইডিট করা।

আমার কথা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিপ্রার সকল ছবি সত্য হোক, তারপরেও ছবিগুলো নিয়ে এতো আলোচনা-সমালোচনার কি আছে। মদের বোতল হাতে নিয়ে কি শখ করে আপনি কখনো ছবি তুলেন নাই? নাকি আপনার নারী বন্ধুকে জড়ায়ে ধরে ছবি তুলেন নাই? আপনারা এখন এই ছবিগুলো পেয়ে এমন ভাব নিচ্ছেন এরকম ছবি আপনারা এই প্রথম দেখছেন। এই কিছু ছবির কারণে শিপ্রাকে চরিত্রহীন, লম্পট থেকে নানান ট্যাগ দেওয়াটা আধো কতটুকু যুক্তিযুক্ত? হরফ করে বলতে পারি এখানে শিপ্রার এসব ছবি নিয়ে যারা উন্মাদ হয়ে আছেন, ফেসবুক গরম করে দিচ্ছেন তারা নিজেরা রেগুলার পর্ণ দেখেন এবং সঙ্গোপনে টয়লেটে পাশের বাড়ির মেয়েটার চেহেরা ভাবতে ভাবতে হস্তমৈথুনের সুখ নেন। আচ্ছা আপনাদের সামান্য এই ছবিগুলোতে এতো এলার্জি কেনো? আপনারা কি বুঝতে পারছেন না এই ইস্যুকে সামনে আনা এক প্রকার ষড়যন্ত্র, যাতে সিনহা হত্যার বিচার ধামাচাপা পড়ে যায়। আর আপনারা সে ষড়যন্ত্রের সহায়তায় সামিল হচ্ছেন কার লাভে, কিসের লোভে?

সময় এখন মিডিয়ার। মিডিয়া প্রচার করলে আইন-আদালত-তদন্ত আরো স্পষ্ট এবং দ্রুত হয়। মিডিয়া যেখানে পূর্ণদমে সিনহা হত্যার ঘটনা নিয়ে নানান অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কাস্ট করছিলো মাঝখানে বামহাত ঢুকিয়ে দিলেন আপনারা। গতকাল রাতের সময় টিভির ফেসবুক লাইভে দেখলাম শিপ্রা কক্সবাজার সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পুলিশের দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আরো ১০০ জনের নামে মামলা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কক্সবাজার থানা পুলিশ প্লেস অব অকারেন্সের (ঘটনার স্থান) অজুহাত দেখিয়ে মামলা নেয়নি, বরং রামু থানায় মামলা করতে নাকি শিপ্রাকে পরামর্শ দিয়েছেন। আমি মনে করি এটা পুলিশের দারুণ একটা তিন নাম্বার হাত বা অজুহাত। কারণ সিনহা হত্যার পর থেকে শিপ্রা জেল থেকে মুক্তি পেয়ে কক্সবাজার জলতরঙ্গে (একটি হোটেল) অবস্থান করছেন নিরবিচ্ছিন্নভাবে। শিপ্রা যেহেতু কক্সবাজারে অবস্থান করা অবস্থায় অপরাধের শিকার হয়েছে সেখানে মামলা নিতে আপত্তি কিসের থাকতে পারে বুঝি না। শিপ্রার যেসব ছবি পুলিশ ও পিবিআই এর দুইজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ফেসবুকে ছড়িয়েছেন এবং জনমানুষকে এসব ছড়াতে উদ্ভুদ্ধ ও প্রলোব্ধ করেছেন তারা একেকজন দেশের একেক প্রান্তে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বসে কিন্তু শিপ্রার দাবীকৃত মামলার অপরাধগুলো তারা সংগঠিত করছে। ভিক্টিম শিপ্রা রয়েছে বর্তমানে কক্সবাজারে।

সুতরাং আইনীভাবে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করতে বা সে মামলা আমলে নিতে কক্সবাজার সদর থানার কোন আপত্তি থাকার কথা না। কারণ আইনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে অপরাধ ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় সংগঠিত হলে এর ফল বা ভিকটিমের ইচ্ছের উপর যেকোন আদালতের এখতিয়ার সম্পন্ন থানায় মামলা করা যায়। সুতরাং কক্সবাজার থানা মামলা গ্রহণ না করে এবং রামু থানায় মামলা করার পরামর্শ দিয়ে জাতীয় আলোচনা থেকে নিজেদের দায়মুক্ত করতে চেষ্টা করেছে বলে আমি মনে করি। এখন রামু থানাও কিরকম আচরণ শিপ্রার সাথে করবে তা আন্দাজ করা যায়। শেষ ভরসা হয়তো আদালত হবে শিপ্রার জন্য। শিপ্রার মামলা করার উদ্দ্যেগ অবশ্যই সাহসী এবং সময়ের সঠিক পদক্ষেপ। যে হোক না কেনো আইন নিয়ে ছেলেখেলা করলে আইনের আওতায় আসুক, সুবিচার প্রতিষ্ঠা হোক।

”ল” ইজ নট ইউর প্লে ট্র‍্যাক, য়্যু ক্যান বি আ সারভেন্ট ও ল।

এক সাগর রক্ত দিয়ে আমরা বাংলাদেশের সংবিধান পেয়েছি। দেশের সকল নাগরিকের জন্য সংবিধান পবিত্র গ্রন্থ। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী All citizens are equal before law and are entitled to equal protection of Law (সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী) এই নীতির এবং অধিকারের প্রতিষ্ঠা পরিপূর্ণভাবে হোক।

সচেতন থাকুন, সতর্ক থাকুন।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ব্লগপোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার শিপ্ত বড়ুয়া

পৃথিবীর পথে গন্তব্যহীন পরিব্রাজক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: আমার কলম কপিরাইট আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল সুতরাং লেখা কপি করাকে নিরুৎসাহিত করে। লেখার নিচে শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করার জন্য আপনাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।