সফলতা প্রেমীদের বইটি পড়া উচিত

()

বই হচ্ছে মানব মনের আনন্দ -দুঃখের সহ আরো নানা বিষয়ের খোরাক বটে।বই পড়ে কত যে কিছুর জ্ঞান অর্জন করা যায় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।প্রত্যেক ব্যক্তির বই পড়া অভ্যাস থাকা নিঃসন্দেহে ভালো।

আমার সাম্প্রতিক সময়ে পড়া “প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভ ” বইয়ের রিভিউ নিচে পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হল:

বইয়ের নাম: প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভ

লেখক:ডেল কার্ণেগী
ধরন:আত্মউন্নয়ন মূলক বই(অনুবাদিত বই)

বইটির ভূমিকা মধ্যে উল্লেখিত হয়েছে লেখকের জীবনবৃত্তান্ত এবং বইটি সম্পর্কে সারাংশ। যা পাঠকদের বইটির পড়তে মনের মধ্যে উৎসাহ যোগাবে।ডেল কার্ণেগী ইংরেজ সমাজ থেকে উঠে আসা একজন লেখক।ইংরেজ সমাজ থেকে উঠে আসা লেখক হলেও তিনি বাঙালি সমাজ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছেন।শুধু তাই নয়,তিনি বাঙালি সমাজকেও উপদেশ দিয়েছেন,দিয়েছেন জ্ঞানও।

১৮৮৮ সালে ডেল কার্ণেগী আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রেরর মিসৌরীতে রেলপথের দশ মাইল দূরে এক খামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।অতি সাধারণভাবে তিনি তার জীবন শুরু করেন।জন্মের বার বছর পরও মোটরগাড়ি চোখে দেখেননি।অথচ ছেচল্লিশ বছর পার না হতেই পৃথিবীর সব শিক্ষিত মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন। তিনি ১৯১২ সালে নিউইয়র্কে শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি  “প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভ ” বইটি লিখে ফেলেন।যা তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়।তিনি মনে করেন প্রতিটি মানুষের মধ্যে লুকিয়ে আছে অপরিসীম শক্তি আর প্রতিভা। একাগ্রতা,অধ্যবসায় আর চারিত্রিক দৃঢ়তার সাথে সেই প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারলে যেকোন মানুষই অনায়াসে অসাধ্যকে সাধন করতে পারেন। বইটির ভূমিকাতে কাদের জন্য বিশেষ উপযোগী তা ও বলা হয়েছে।বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত মানুষ বিশেষ করে বেকার,হতাশাগ্রস্ত,আর্থিক অভাবগ্রস্ত, পেশাগত সফলতা লাভে ব্যর্থ মানুষদের জন্য এই বই কাজে আসবে বলে বলা হয়েছে।

“প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভ ” বইটিতে মানবজীবনে চলতে যে নানাধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।তা হতে কিভাবে দূরে বা সমাধান করা যায় তা খুব সুন্দরভাবে লিখিত হয়েছে। আমাদের মানবজীবনে নতুন কোন কাজ বা চলতি যেকোন কিছু আরো এগিয়ে নিয়ে ভালো ফলাফল লাভ করতে “উৎসাহী” করা গুণটি খুবই অপরিহার্য। কেননা এটির মাধ্যমে যেকোন হতাশাগ্রস্ত মানুষ তার কাজের পূর্ণরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।এমনকি এটির মাধ্যমে মানুষ তার কাজের সাফল্যের দিকে অনেকাংশ ধাবিত হয়।কোন মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করার একমাত্র উপায় হলো তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় নিয়ে কথা বলা।কারণ কারো প্রিয় কিছু নিয়ে কথা বললে মানুষটি যেমন মনে আনন্দ সঞ্চালিত হয় ঠিক তেমনি উৎ সাহীত ও হয়।

যদি কোন মানুষকে প্রশ্ন করা হয় আপনি আপনার ভালো এবং খারাপ গুণ বলেন।তখন মানুষটি হয়তো আগে তার ভালো গুণ বলবে।তার খারাপ গুণগুলো প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করবে।মনে করতে পারে যদি আমি আমার খারাপ গুণগুলো মানুষের সামনে প্রকাশ করি মানুষ আমাকে খারাপ ভাবতে পারে।যদি বিপরীতে অন্য কোন মানুষের ভালো গুণের চেয়ে খারাপ গুণগুলো অাগে প্রকাশ করবে।যদি সেটি নিজের ক্ষেত্রে প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ কাজ করে।তাহলে অন্যজনের ক্ষেত্রে কেন সর্বপ্রথমে খারাপ দিকগুলো বলা হয়?কোন মানুষের ভালো কোনগুণ যত সহজেই প্রকাশ হয় না ;তারই খারাপ গুণগুলো বাতাসের মতো অতি দ্রুততার সাথে প্রকাশ হয়ে যায়।বইটিতে অন্যজনের ভুলের কথা আগে বলার চেয়ে নিজের ভুলের কথা আগে বলতে বলা হয়েছে।এতে মানুষের ভুল প্রকাশ করলে তা পরবর্তীতে অনেকাংশ কমে যাবে।

বেশির ভাগই মানুষরা নিজের উপর অন্যের কড়া কোন হুকুম কম পছন্দই করেন।কেননা সুন্দর করে বলাতে যতটুকু কাজ হবে ;হুকুমে তা অনেকক্ষেত্রে বা অনেকসময় কাজ নাও হতে পারে।যদি কেউ ভুল করলে তা কেন হয়েছে বুঝিয়ে বললে হয়তো পরবর্তীতে ভুল নাও হতে পারে।যদি ভুল কেন করা হয়েছে তা বুঝিয়ে না বলে কড়া শাসন করতে থাকলে ভুল হতে বেরিয়ে আসতে পারবে না।যা ভালো কোন কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করে।এতে ভুল সংশোধনের কোন সুযোগও পায় না।কোন কাজে ভুল হলে তা বুঝিয়ে বললে মানুষ কাজের গুরুত্ব বুঝতে পারে।

যদি কেউ কোন ভালোকাজ করছে অনেক মানুষরা তা সহ্য করতে পারে না।মনে করে আমি কেন ঐ ভালো কাজটি করতে পারি নি?সে পেরেছে তাকে কেন বা প্রশংসা করব?এতে তো আমি তার চাইতে পিছিয়ে থাকতে পারি।আরে এসব নেতিবাচক চিন্তাচেতনা বাদ দিয়ে একটু ইতিবাচক চিন্তাচেতনা মধ্য দিয়ে ঐ ভালো কাজের একটু প্রশংসা করলে তো আপনার কোন ক্ষতি হবে না। বরং আপনারই লাভ হবে। আপনার কিভাবে লাভ হবে?

যদি আপনি ঐ লোকের  মতো মনের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তাচেতনা পোষণ করেন।তাহলে আপনিও সাফল্য অর্জন করতে পারা যাবে।তখন আপনার মনে হতে পারে আমাকে লোকজন আমার কাজে প্রশংসা করবে তো।বইটিতে বলা হয়েছে ১৯১২ সাল নাগাত এক তরুণ গান গেয়ে তার জীবিকা নির্বাহ করত।কিন্তু তাকে কেউ প্রশংসা করত না।সামান্য গান গেয়ে জীবিহা নির্বাহ করাটা ঐ তরুণের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।সে এমনই হতাশায় ভেঙে পড়েছিল যে শেষ পর্যন্ত গানের জীবিকা ছেড়ে লরী বিক্রির কাজে যোগ দেবে বলেই ঠিক করল।ঠিক তখনই রিউপার্ট হিউজেসের এক ছোট্ট প্রশংসা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল।রিউপার্ট হিউজেস বলেছিলেন, ‘তোমার গানের গলা চমৎকার।তোমার নিউ ইয়র্কে গিয়ে গান শেখা উচিত ‘।

ছোট করে বললে আপনি যদি কোন মানুষকে কোন গুণের জন্য উন্নত করতে চান তাহলে এমন ব্যবহার করতে হবে যেন তার সেই গুণটি বর্তমান রয়েছে আর সেটা দারুণ কিছু।শেক্সপীয়ার বলেছিলেন -“কোন গুণ না থাকলে সেটা যে তার মধ্যে রয়েছে এমন ভাব দেখান”।যে লোকের ওই বিশেষ গুণ নেই সেটা যদি তার আছে ধরা যায় তাহলে সে তার খ্যাতিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টাই করে।তাকে প্রশংসা করুন,তাহলে সে আপ্রাণ চেষ্টায় আপনার কাছে জাহির করতে চাইবে। একটা প্রাচীন প্রবাদ আছে-“কোন কুকুরকে বদনাম দিয়ে ফাঁসিতে ঝোলাতে পারা যায়।কিন্তু তার প্রশংসা করে দেখুন কি হয়”। প্রায় প্রত্যেকেই -ধনী,দরিদ্র,ভিখারি,চোর-সবাইকে একবার সৎ বললে তারা সেটা বজায় রাখার চেষ্টা করে। অতএব অপরকে ক্রুদ্ধ বা বিরক্ত না করে ”সামান্য উন্নতিতে প্রশংসা করতে হবে-যেটুকু উন্নতি হয়েছে সেটুকু প্রশংসা করতে হবে।আর সেটা আন্তরিকতায় সঙ্গেই করতে হবে”।

পরিশেষে আমি বইপ্রেমীদের উদ্দেশ্যে বলি,মানবজীবনে নানাধরনের সমস্যা উত্তরোণের জন্য মানসিক অবস্থা ভালো রাখার জন্য ডেল কার্ণেগী “প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভ ” বইটি খুবই উপযোগী হবে।পাশাপাশি কোন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে নানা সমস্যার সমাধানের উপায় বইটিতে লেখক খুব সুন্দরভাবে সাবলীল ভাষায় ব্যাখ্যা করেেছেন।

নিজে বই পড়ি।                                      নিজ মস্তিষ্কে উৎকর্ষ সাধন করি।
অন্যজনকে বই পড়তে উৎসাহিত করি।
সুন্দর ভাবনাময় পৃথিবী গড়ি।

আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে আমার রিভিউ পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
কান্তু শর্মা।
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
কক্সবাজার সিটি কলেজ
ই-মেইল আইডি:[email protected]

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ব্লগপোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার কান্তু শর্মা

অামার নাম কান্তু শর্মা। অামি বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কক্সবাজার সিটি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে (২য় বর্ষে) অধ্যয়রত।অামার প্রিয় সখ কবিতা লিখা এবং নিজস্বীয়তায় কিছু লিখা।অবসর সময়ে বই পড়তে ভালো লাগে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।