১৬২ ধারার জবানবন্দি

সে প্রায় সময় আমার মোবাইল ফোনে এবং স্বশরীরে এসে আমাকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিতো হুজুর। আমি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করতাম হুজুর, আমার স্বামী আছে, সন্তান আছে আমি এসব অকাজ করতে পারবো না। হঠাৎ গতকাল সে আমার ঘরের দরজার ছিটকিনি নাড়াতে থাকে হুজুর, আমি ঘরের ভেতর থেকে জিজ্ঞেস করলাম কে কে? সে বললো আমি অগাধ চন্দ। আমি তার শব্দ শোনে তাকে বললাম কেনো এসেছো? সে বললো দরজা খোলতে, আমি ভয়ে দরজা খুলি নি হুজুর। তারপর সে আমাকে বললো দরোজা না খুললে সে আত্মহত্যা করবে। আমি বলেছি তোর যা ইচ্ছে কর। হুজুর আমার স্বামী বাসায় না থাকার সুযোগে সে আমার দুর্বলতার সুযোগ নিতে চেষ্টা করছিলো। সে অনেকবার আমাকে তার সাথে বিছানায় শোয়ার প্রস্তাব দিচ্ছিলো হুজুর। আমি এবং আমার স্বামী তাকে খুন করি নি।

অগাধ চন্দ ছিলো মহরমা দাসের পাড়াতো দেবর। মহরমার স্বামী বাজারে ছোট একটা মুদির দোকান করতো। মহরমা বেশ সুন্দরী নারী, লম্বা, মুখখানা গোলাকৃতি যদিও তার সামনের দাঁতের অংশটা একটার উপর আরেকটা লাগানো ছিলো, সবমিলিয়ে সুন্দরী মহরমা দাস। দীর্ঘদিনের প্রেমের পরিণতি মহরমা আর রাহুল দাসের বিয়ে। গ্রামের খুব সাধারণ ঘটনা, এক পরিবারের সদস্য অন্য পরিবারে আড্ডার খাতিরে প্রবেশ করা। অগাধ চন্দের বাড়িও রাহুল দাসের পাশেই, সম্পর্কে তারা দুসম্পর্কীয় চাচাতো জেটাতো ভাই। রাহুল দাস সারাদিন থাকে দোকান নিয়ে আর অগাধ চন্দ মহা বেকার। অন্যের বউ নিয়ে আমোদ ফুর্তি তার নেশা।

প্রায় প্রতিদিনই টিভি দেখার ফন্দি নিয়ে অগাধ মহরমার বাড়িতে যাওয়া আসা করতো। সেখানে খুনসুটি আর আলাপচারীতায় অগাধ আর মহরমার প্রেম জমে উঠে। মহরমাও দীর্ঘদিনের প্রেমিক স্বামীকে কিছু মুহুর্তের জন্য ভুলে গিয়ে প্রায় সময় অগাধ চন্দ্রের সাথে আমোদ ফুর্তিতে মেতে উঠে। মহরমার ও রীতিমতো নেশা হয়ে উঠেছে অগাধ এর সাথে শারীরিক জ্যামিতি করা। এ যেনো মহাপ্রলয়ে একটুখানি আশ্রয় নিয়ে জীবন বাঁচানোর মহৌষধ।

আজকে বেঁচা বিক্রি কম আর শরীর ও ভালো যাচ্ছে না রাহুল দাসের। দোকানের ছেলেদের বললো, দোকান বন্ধ করতে। সময় তখন বিকেল ৩.৩৬ মিনিট। দোকান বন্ধ করেই একটা মাথা ব্যাথার ঔষধ নিয়ে বাড়ি রওনা দিলো। বাড়িতে গিয়েই দেখা পেলো ঘূর্ণিঝড়ের। তার বউ অগাধ চন্দ্রের সাথে একই বিছানায় শুয়ে সুখ দুক্ষের গল্প করছে। রাহুল দাসের পৌরুষত্ত্ব নিয়ে কথা হচ্ছে। ক্ষণে ক্ষণে অগাধ চন্দ্র মহরমাকে আলিঙ্গনে তার ভালোবাসার প্রমাণ দিচ্ছে। রাহুলের তখন সাত আসমান ভেঙে পড়লো, সামনেই দেখতে পেলো আস্ত চারকোণা গাছের টুকরো। হাতে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেই অগাধ চন্দের মাথায় আঘাত করতে লাগলো। মিনিটেই নিঃশেষিত হলো অগাধের দেহ। সাথে সাথেই অগাধের গলায় দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে অগাধের মৃত দেহ তার ঘরের সিলিং এ টাঙিয়ে দিলো। স্ত্রীকে বললো খানকি তোরেও খুন করবো আমি যা বলি তা যদি না করিস।

পুলিশ খবর পেয়ে আসলো, অগাধের লাশ পড়ে আছে মহরমার রান্নাঘরে। পুলিশ লাশ ময়না তদন্তে নিয়ে গেলো। রিপোর্ট পাওয়া গেলো অগাধ নিজেকে ঝুলিয়ে আত্মহনন করেছে। রাহুল প্রায় এক বছর জেল খেটেছে বিচার চলাকালীন সময়ে। এখন জামিনে মুক্ত। তিনবার তদন্ত হয়েছে, কাউকেই অভিযুক্ত দেখানো হয়নি। এইতো কিছুদিন পরেই শেষ হবে বিচারকার্য। কিছু একটা হবে কিন্তু অগাধের………….।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার শিপ্ত বড়ুয়া

শূন্য দশকের অপরাধ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।