ধর্ম মানেই বিভাজন, ধর্ম মানেই ঘৃণা, ধর্ম মানেই অন্ধকারের পর্দা

#বোরকাওয়ালী

বহুদিন আগে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ ভোলায় তখন আমার অবস্থান। তখন আমি একটা অফিসের বস।
একদিন কাজ করছিলাম নিজের টেবিলে। সহকর্মীরা তখন সব বাইরে। তখন দুপুর।
আপাদমস্তক বোরকায় ঢাকা এক মেয়ে ঢুকল আমার অফিসকক্ষে। চোখ দুটোই শুধু দেখা যাচ্ছে। ভাগ্যিস, মানুষের চোখ ছিল!
মেয়েটির সঙ্গে ঠিক কী কথা, কী ধরনের কথা হয়েছিল তা এখনও আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
মেয়েটিকে বসতে বললাম। বসল। আগ্রহ নিয়ে। প্রশ্ন নিয়ে তাকালাম। বলল, “মোশাররফ ভাই আছে? আমি তার ছোটবোন। ”
“নেই। বাইরে আছে। চারটার আগে ফিরবে না। আপনি কি অপেক্ষা করবেন? ”
“হ্যাঁ। ”
“জ্বি, থাকুন। সমস্যা নেই। ”

পুরুষ সুযোগ খোঁজে আর নারী খোঁজে কারণ।
হাহাহা, একটু পরেই চিরাচরিত যৌন-দাবায় আমি আমার প্রথম চালটা দিলাম! বললাম, ” আপনার বোরকাটা অনেক সুন্দর!”
মেয়েটির চোখ নেচে উঠল। কিন্তু কিছু বলল না।
একটু পর আবার বললাম, “আমি শুনেছি, যেসব নারী দেখতে সুন্দর নয়, তারাই বেশি বেশি বোরকা পরে। সুন্দর মেয়েরা না কি বোরকা পরে না!”
জোরে হেসে উঠল মেয়েটি। আর চোখদুটিও আবার ঝিলিক দিয়ে নেচে উঠল। কিন্তু এবারও সে কথা বলল না।
আমি ভাবছি। একটু জেদ চেপে যাচ্ছে। তোমার মুখটা আমি দেখতে চাই মেয়ে!
কিন্তু না, বৃথা যায় নি! মেয়েটি নিজে থেকেই তার মুখের কাপড় সরিয়ে নিল।
দেখলাম! ওরে বাস্! এ যে আমার রাতের স্বপ্নের নায়িকা সুস্মিতা সেন! দারুণ সজীব! যেন ছুঁয়ে দিলেই ফুটে উঠবে, এমন গোলাপ কুঁড়ি!
ভাস্করের মতো তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য উপভোগ করলাম। দারুণ আকর্ষণীয় তার মুখশ্রী।
দুজন দুজনকে দেখছিলাম খুব করে। দুজনই বুঝতে পারছিলাম আমরা আকৃষ্ট হয়ে পড়ছি একে অন্যের প্রতি। প্রচন্ডভাবে আকৃষ্ট হচ্ছি আমরা।
বললাম, “বোরকাটা খুলে ফেলুন, মেয়ে!” সে কোনো কথা না বলে খুলে ফেলল বোরকা।
তখন আমি সদ্য নারীদেহ চিনেছি। নারীর শরীরের প্রতি এক ভয়াবহ আকর্ষণ বোধকরি তখন। কিন্তু এমন ক্রেজিলাভের শিকার হই নি আর কখনও।
প্রচন্ড কামনাবোধ এবং সৌন্দর্য পিপাসায় বুভুক্ষুর মতো নির্লজ্জ তাকিয়ে রইলাম ওর দিকে। একই রকম প্রতিক্রিয়া মেয়েটিরও। ওর সমস্ত লাজুকতা কোথায় যেন চলে গেছে! মুখোমুখি বসে পরস্পরের উষ্ণ নিঃশ্বাসের নিকোটিনে আচ্ছন্ন হয়ে গেলাম দুজনই। সময় কেটেছে বড়জোর আধাঘন্টা।
অবশেষে আমি উঠে মেয়েটির পাশে এলাম। মেয়েটি বসেই রইল। আমি হাঁটু গেড়ে বসে একটা আঙ্গুল রাখলাম ওর হাঁটুর উপরে। আর তৎক্ষণাৎ বিদ্যুতের তরঙ্গ বয়ে গেল শরীরে শরীরে। মেয়েটি হাত বাড়িয়ে দিল। আঙ্গুল জড়ালাম আঙ্গুলে। ভয়াবহ এক কামনার আগুনে পুড়ছি দুজনই।
উঠে দাঁড়িয়ে কামড়ে ধরলাম ওর গলার উপরটা। তারপর চুল খামচে ধরে আমার মুখমণ্ডল ঘসে নিলাম ওর কোমল দুই গালে। আত্মসমর্পণ করল মেয়েটি, নিজেকে ছেড়ে দিল আমার কাছে। সৈয়দ মুজতবা আলীর উপদেশ মনে পড়ে গেল, ” সুপুরুষ ইতিকর্তব্য পালন করে! ” প্রণাম গুরুদেব!
তারপর মেয়েটির কামিজের নিচে মেরুদন্ডে লিখলাম শিহরণের কবিতা। বললাম, ” তোমাকে আমার চাই। সবসময়। তুমিও কি চাও? ”
“চাই! আপনাকে ছাড়ব না আমি! কিছুতেই না! আপনাকেই খুঁজেছি আমি!”
“আমিও! আমিও! তোমার নাম কী মেয়ে? ”
” ফাতিমা। তোমার নাম কী? ”
“দিপু। ”
“আপনি কি হিন্দু?”
“লোকে তো সেটাই বলে! ”
“হায় আল্লাহ! ”
ঠান্ডা হয়ে গেল ফাতিমার পুরো শরীর। শিথিল হয়ে গেল মেরুদন্ড। প্রচন্ড হতাশা ওর চোখে মুখে। একটু হয়তো বিবমিষাও। চেয়ারে এলিয়ে গেল সে। ওর চোখে নিজের প্রতি ঘৃণাও দেখতে পেলাম।
আবার বোরকা পরল সে। ঢেকে ফেলল মুখমন্ডল। কালো বোরকার অন্ধকারে হারিয়ে গেল আমার সুস্মিতা সেন।
আমার অবস্থা আমি বর্ণনা এই মুহূর্তে করতে পারছি না। দাঁড়িয়ে আছি অপরাধী হয়ে। হিন্দু হওয়ার অপরাধ! বিধর্মী, ভিন্নধর্মী হওয়ার অপরাধ। এটা তো ক্ষমারও অযোগ্য!
মেয়েটি চলে গেল। বিদায় না নিয়েই, তার ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা না করেই। তার ফিরে তাকানো চোখে ঘৃণা ছিল, আর একটু জলও ছিল বোধহয়।

মেয়েটিকে আমি ঘৃণা করতে পারি না। মানুষকে ঘৃণা মানুষেরা করে না, ধার্মিকেরা করে। ধর্ম মানেই বিভাজন, ধর্ম মানেই ঘৃণা, ধর্ম মানেই অন্ধকারের পর্দা।
Fuck Religion!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার দিয়ার্ষি আরাগ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।