কত স্বপ্ন না জানি দেখেছিল রুপা !

()

একজন রুপা আর একজন দামিনী। দুজনের উপর বয়ে যাওয়া ঝড়ের নাম একটা। ধর্ষণ! রুপা বাংলাদেশী মেয়ে আর দামিনী ভারতের। রুপার ঘটনা ২০১৭ সালে। আর রুপার মৃত্যুটা সবর্স্ব হারানোর পরেই। আর দামিনী ২০১৩ সালে তিন দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে। রুপার নিউজটা দেখে চোখের পানি আমি ধরে রাখতে পারিনি। এভাবে আমাদের মেয়েগুলো কেন হেরে যাচ্ছে? কেন হেরে যায় আমাদের মেয়েগুলো। কোন অপরাধে? একটি মেধা মূখ রুপা। যে গন্তব্যে পৌছতে পারেনি পুরুষের অন্ডকোষের লালসার মেটানোর কারণে। যেন একটা আম খেল নরপিশাচ রা। চেটে পুটে অবশেষে ছুঁড়ে ফেলে দিলো খুব করে দূরে। যতক্ষণ আমটা ভক্ষণ শেষ হচ্ছিলনা ততক্ষণ সেটা চুষার পরিতপ্তি সইছিলনা। হায় রুপা ! তুমি সেই আম হলে চলন্ত বাসে। একটা মোবাইল পাঁচ হাজার টাকা ঐ বদমাইশদের কাবু করতে পারেনি যত না পেরেছে তোমার শরীরটা।

নারী এতই ফেল না ! যার যথোপযুক্ত প্রমাণ পাচ্ছি দিনকে দিন একটা পর একটা ধর্ষণ নামক অজগরের ঘটনা শুনে। আমরা নারীরা প্রায়শই অবাক হই, আমরা কি নারী ক্ষমতাধরের শাসনামলে বসবাস করছি! স্পীকার, বিরোধী দল সহ সরকারের বেশীর উচ্চ পদস্ত নারীর হাতে দেশের শাসন বিচারাদির মতো পদ পদবী। আর সেই দেশে মহামারী আকারে ভাসছে ধর্ষণ নামক ভয়াবহ মরণ ব্যাথি। রুপা তোমার মৃত্যু তোমার স্বজনের বুকে বিঁধেছে। আর যদি বিঁধে আমাদের মতো কয়েক লেখকের আঙ্গুলের ডগায় !

আমরা অভাগা তোমাদের বাঁচাতে তোমাদের ইজ্জত ফিরাই দিতে তোমাদের বিচার পাইয়ে দিতে আমরা বার বার ব্যর্থ হই? আমরা নারী নেত্রীর শাসনে থেকেও নিরাপদ নই। বিগত কয়েক যুগ পার হলো নারী শাসনামলের। পেরেছে কী সরকার কোন ধর্ষকের উপযুক্ত বিচার দিতে? মহাসাগরে ডুব দিলেও এই লজ্জা থেকে মুক্তি মিলবেনা। রুপাদের কাছে যাবেনা কোন শান্তনার বাণী। পুরুষের কয়েক মিনিটের সুখ নারীত্বের কষ্ট দিয়ে। যে পুরুষাঙ্গ নিয়ে বড়াই করে এসব ধর্ষক হায়েনারা তারা কী কোন মায়ের পেট থেকে বের হয়ে আসে নি? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোদের জাত এক পুরুষ বলেছে ধর্ষকদের মা বোনকে রেখে ধর্ষণ করলে তাদের বুঝ হবে।

চরম দুঃখ অবসাদ থেকে লজ্জিত হয়ে ঐ পুরুষটি এই মন্তব্য রেখেছে। কী লাভ হলো রুপাকে মেরে। রুপা তার সর্বস্ব যাবে জেনেই বলেছে আমার কাছে যা আছে ব্যাগে সব নিয়ে যাও। তারপরো আমাকে ছেড়ে দিও! রুপা হয়তো আশংকা করেই ফেলেছিল তাকে ধর্ষণের পর মেরে ফেলতে পারে। কিন্তু পাপীরা তাকে একটা নরক যন্ত্রণার উপর রেখে মরণ যন্ত্রণাটাও নিশ্চিত করে ফেলে দিয়ে যায় তার লাশ। ধরা তো খেলি পাঁচ জানোয়ার। যে কারণে মারলি রুপাকে ধরা পড়ার ভয়ে দেখ এখন তোদের কর্ম তোদের ডাক দিয়েছে হাজত বাসে। এখন বিচারের প্রত্যাশা এক রুপার পরিবারের। কত রুপা যে এভাবে চলে গেল। তনু, ইয়াসমীন, রিপা হাজার হাজার মেয়ে। একটা ধর্ষকের ঠিকমতো বিচার কী হয়েছে? হয়নি। তাইতো গজিয়ে উঠছে নব্য ধর্ষক। চারদিকে ফোঁসফোঁস করছে শুধু ধর্ষক। সুযোগ জায়গা মতো পাবার অপেক্ষায় অন্ডকোষ কে সজাগ রাখছে। এই কি শিক্ষা !এদের ভেতর কী আছে কোন ধরণের মনূষত্ব আত্বসন্মাণ রুচি?

আমরা নারী জাতি বড় বেশী আবেগপ্রবণ।আবেগায়িত হয়ে আমরা আমাদের জায়গা থেকে সরে যাই। আমরা ভুলে যাই পেছনের কথা। আমরা বারবার বাঁচার তাগিদে নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষায় মাথা ঠুকে কাঁদি। আমরা বিফল হই। বিফলে যায় আমাদের সমস্ত অর্জন।আমরা অন্ন পেলে বাসস্থান হয় পাইনা, পোশাক পেলে না হয় শিক্ষার সুযোগ থাকেনা। শিক্ষাপেলে হয়তো সেটার শেষ টুকু দেখার সোযোগ থাকেনা। আমরা একটা পেলে আরেকটা পাইনা। তেমনি কি রুপা সব পেয়েছিল। লেখা পড়ার সুযোগ চাকরী সব। পরিবারের সহযোগিতা সব। কিন্তু বাঁচার শখটুকু পায়নি। তার ভেতরে অনেক দিনের বপন করা স্বপ্নের বাস্তব রুপ পায়নি। আর কতো কতো স্বপ্ন না জানি রুপা দেখেছিল! ধীরে ধীরে এতোটা সাজিয়ে গূছিয়ে রুপার জীবন যাচ্ছিলো পৃথিবীর সব চাইতে নিকৃষ্ট ঘটনার মুখোমুখি হতে। এটি না হলেও তো পারতো রুপার উপর! আমরা রুপাদের জন্য নিরাপদ রাস্তা , নিরাপদ বাহন, নিরাপদ পরিবেশ দিতে পারিনা / এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর নেই। রুপাদের জন্য এই গ্রহটাও কাঁদছে। আমরা দেখছিনা। একটা বিচার শুধু পারে আমাদের দেখাতে।একটা উপযুক্ত বিচারের জন্য বাংলার সব নারী মাঠে নামুক। সরকারকে চাপ প্রয়োগ করুক। আমরা চাই রুপাদের হত্যার বিচার ,চাই প্রত্যেকটি ধর্ষণের বিচার।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ব্লগপোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার সাহিদা সাম্য লীনা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: আমার কলম কপিরাইট আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল সুতরাং লেখা কপি করাকে নিরুৎসাহিত করে। লেখার নিচে শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করার জন্য আপনাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।